1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
আয়ূব খানের শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আপোষহীন বাষট্টির আন্দোলন - dipanchalnews
রবিবার, ০৪ ডিসেম্বর ২০২২, ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ :
বরগুনা পৌর পান-সুপারী ব্যবসায় সমবায় সমিতি লিঃ এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত বরগুনায় মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ২০২২ অনুষ্ঠিত মানবতার আরেক নাম নব-গঠিত বরগুনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ মানবতার আরেক নাম নব-গঠিত বরগুনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ “ধ্রুবতারা” বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি সুমন সিকদার, সম্পাদক অর্পিতা বরগুনায় শ্রমিকলীগের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু এর ২য় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে শ্রমিক লীগের শুভেচ্ছা জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতিকে শ্রমিক লীগের শুভেচ্ছা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বরগুনায় জেল হত্যা দিবস পালিত

আয়ূব খানের শরীফ কমিশনের শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে ছাত্রলীগের আপোষহীন বাষট্টির আন্দোলন

  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২২
  • ৭৩০ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

ঐতিহাসিক ১৭ ই সেপ্টেম্বর ‘শিক্ষা দিবস। ১৯৫৮ সালে আয়ুব খান কতৃক তৎকালীন পাকিস্তানের শিক্ষাসচিব ড.এস এম শরীফের সভাপতিত্বে ১০ সদস্যের কুখ্যাত কমিশন গঠন করা হয়। এই কমিশন ১৯৫৯ সালের ২৬ শে আগষ্ট সম্পূর্ন গণবিরোধী, প্রতিক্রিয়াশীল চরিত্রে বাংলাভাষা ও বাঙালীর জাতিসত্তার মর্মমূলে আঘাত হেনে রিপোর্ট পেশ করেন।রিপোর্টের মূল কয়েকটি সুপারিশ ও অভিমতের মধ্যে ছিলো—
—শিক্ষা নাগরিকের জন্মগত অধিকার নয়, শিক্ষা একটি উত্তম ব্যায়বহুল বিনিয়োগ।
—অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক প্রাথমিক শিক্ষা অবাস্তব ও রাষ্ট্রীয় অর্থের অপচয়।
—ষষ্ঠ থেকে ডিগ্রি পর্যন্ত ইংরেজি শিক্ষা বাধ্যতামূলক ও ডিগ্রি কোর্স হবে তিন বছর মেয়াদী।
দীর্ঘদিন পর ১৯৬২ সালে শরীফ কমিশনের শিক্ষা সংকোচন নীতিকাঠামো গ্রন্থাকারে প্রাকাশিত হয়।এবং আয়ূব সরকার এ নীতি গ্রহনকরে তা বাস্তবায়ন শুরু করে।
১৯৬১ সালের ডিসেম্বর মাসে আওয়ামী লীগ নেতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান তোফাজ্জেল হোসেন মানিক মিয়া কমিউনিষ্ট নেতা কমরেড মনি সিংহ ও খোকা রায়ের মধ্যে সমঝোতার ভিত্তিতে ছাত্রলীগ ও ছাত্র ইউনিয়ন,আয়ূব খানের সমরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের সিদ্ধান্ত হয়।
১৯৬২ সালের ২১ শে ফেব্রুয়ারি শহিদ দিবসে আন্দোলনের সিদ্ধান্ত নেন তারা কিন্তু আওয়ামি লীগের কর্নধর হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী গ্রেফতারের পরে আন্দোলন আরো ত্বরান্বিত হয়। ছাত্রলীগের ডাকে ১ ফেব্রুয়ারি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সর্বত্মকভাবে ছাত্র ধর্মঘট পালিত হয়।২ রা ফেব্রুয়ারি ছাত্রলীগ সামরিক আইন ভঙ্গ করে মিছিল হয়।৪—৫ ফেব্রুয়ারি আন্দোলন অব্যাহত থাকে। ৬ ফেব্রুয়ারি হাজার হাজার ছাত্রদের সমাবেশ হয়। ৭ ফেব্রুআরি ঢাকা মেডিকেল কলেজ থেকে একটি সু—সজ্জিত মিছিল নাজিম উদ্দীন রোড থেকে পুরান ঢাকায় প্রবেশ করে। এইদিন মিছিল প্রতিহত করতে সরকার পুলিশের সাথে সেনাবাহিনী নিয়োগ করে এবং কার্জন হল মোড়ে ফিল্ড কামান বসানো হয়। এইদিন আয়ুব খানের ছবি পোড়ানো হয়।৮ ফেব্রুআরি বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষনা করা হয়।
৬২’র দ্বিত্বীয়ার্ধে সরকার ঘোষিত শিক্ষানীতির বিরুদ্ধে আন্দোলন আবারো বেগবান হয়। প্রাথমিক প্রস্তুতির পরে ঢাকা কলেজের ক্যান্টিনে ১০ আগষ্ট বিভিন্ন কলেজের প্রতিনিধি নিয়ে ছাত্রলীগ জরুরি সভা ডাকে। সেই সভা থেকে ১৫ আগস্ট ও ১০ সেপ্টম্বরের আন্দোলনের সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। ১৫ আগষ্টের আন্দোলন শুধু ছাত্রলীগের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রসমাজের গন আন্দোলনে পরিনত হয়। ছাত্রলীগের নেত্রীত্বে ছাত্র ইউনিয়ন সহ অন্যাঅন্য বাম সংগঠন সাথে নিয়ে ‘সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ’ গড়ে তোলা হয়।সর্বদলীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ ঘোষিত ১০ সেপ্টম্বর সচিবালয় ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়া হয়। তৎকালীন সরকার ওইদিন আন্দোলনের তীব্রতা কমাতে হোসেন শহীদ সোহরাওয়ার্দী সাহেবকে মুক্তি দেন ও ১৪৪ ধারা জারি করেন। তার পরিপেক্ষীতে আন্দোলন ওই দিন স্থগিত হয় ও পরবর্তী ১৭ সেপ্টম্বর তারিখ ঘোষনা করা হয়। ১৭ সেপ্টম্বর সকাল ১০ টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাঙ্গনে লক্ষ মানুষ জমায়েত হয়। জগন্নাথ কলেজে গুলির গুজব শুনে মিছিল দ্রুত নবাবপুর রোডের দিকে ধাবিত হয়। মিছিল হাইকোর্টে পুলিশের সাথে সংঘাতে না গিয়ে আবদুল গনি রোডের দিকে যায় পেছনে পেছনে পুলিশ কাঁদানি গ্যাস বুলেট ছোড়ে। দ্বিত্বীয় দফা সংঘর্ষ বাজে ঢাকা কোর্টের সামনে এখানে নিহত হয় বাবুল বাস কন্টাক্টর মোস্তফা ও পরবর্তীতে মারা যায় গৃহভৃত্য ওয়াজিবুল্লাহ। ১৭ সেপ্টেম্বরের ছাত্রসমাজের ওপর প্রচন্ড হত্যা,গুম, খুন,দমন—পীড়নের বিরুদ্ধে ছাত্রলীগ আরও দৃঢ় অবস্থান নেয়। অবশেষে তৎকালীন সরকার শরীফ কমিশনের বিরুদ্ধে সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য হয়। সেই থেকে ১৭ সেপ্টম্বর প্রতি বছর ছাত্রলীগ শিক্ষা দিবস হিসেবে পালন করে আসছে।

লেখক : ফাহাদ হাসান তানিম, সদস্য, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটি। fhtanim24@gmail.com

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme