1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন - dipanchalnews
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৫:৪১ অপরাহ্ন

রেমিট্যান্স এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৮ ডিসেম্বর, ২০২১
  • ৫০ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

সোনিয়া আক্তার, ফেলো, লোকবেতার : সদ্য এম বি এ সমাপ্ত করে বিথি মামা বাড়িতে বেড়াতে আসার পথেই দেখতে পেল একটি কারখানা, সাথে থাকা মামাতো ভাই রাতুলের কাছে জানতে চাইলে রাতুল জানায় মাতবর বাড়ীর সুমন এই কারখানার মালিক।

পথে যেতে যেতে আরো জানতে পারলো সুমন বিএ পাশ করে চাকুরী না পেয়ে সে কারিগরি প্রশিক্ষন নিয়ে বিদেশে পাড়ি জমায় এবং সেখানে তিনি মোটা অংকের টাকায় এখন চাকুরী করে। এলাকার প্রায় ১৫-২০ জনকে সে বিদেশে নিয়েছে। এই কারখানাতেও শতাধিক লেঅক কাজ করে যা;দের সবার বাগিই এই সুজনডাংগা গ্রামে।

এরকম হাজারো সুমন আছেন যারা দেশের জন্য দিন রাত পরিশ্রম করে টাকা পাঠাচ্ছে তবে অপ্রিয় হলেও সত্য যে বিদেশ থেকে পাঠানো টাকোর বেশিরভাই ব্যায় হয় ভোগবিলাশ এবং জমিজমা ক্রয়ের মাধ্যমে। দেশের উনন্নয়নে খুব কম সংখ্যক মানুষই আছেন যারা এই টাকা দিয়ে নতুন প্রতিষ্ঠান তৈরি করেন।

বৈদেশিক মুদ্রা রিজার্ভের একটি বড় উৎস রেমিট্যান্স। বৈদেশিক মুদ্রায় আসা সব রেমিট্যান্স যেহেতু টাকার বিনিময়ে বাংলাদেশ ব্যাংকে সমর্পণ করতে হয় এবং যেহেতু বৈদেশিক মুদ্রা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ধারণকৃত আন্তর্জাতিক রিজার্ভের মজুদে যোগ হয়, সেহেতু একটি ভুল ধারণা জন্মেছে যে রেমিট্যান্স এমন এক ফান্ড, যা আবশ্যিকভাবে সরকার হস্তগত করতে পারে। এ ধরনের ভুল ধারণা সৃষ্টি ও বজায় থাকার ক্ষেত্রে দেশে পরিচালিত আর্থিক ব্যবস্থাই মূলত সহায়তা করেছে।

প্রবাসী শ্রমিক থেকে তাদের পরিবারে রেমিট্যান্স পৌঁছানোর যাত্রাটা চিহ্নিত করা জরুরি। ধরা যাক, বিদেশী ব্যাংকের মাধ্যমে প্রবাসী কর্মীরা তাদের বাড়ির নিকটস্থ ব্যাংকের শাখাগুলোয় ১ বিলিয়ন ডলার পাঠালেন। কিন্তু আমাদের দেশের আর্থিক আইন অনুসারে সমমূল্যের বাংলাদেশী টাকার বিনিময়ে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোকে বৈদেশিক মুদ্রা বাংলাদেশ ব্যাংকের কাছে বিক্রি করতে হয়। যদি ১ ডলার ৮৫ টাকার সমান হয়, তাহলে ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ অ্যাকাউন্টে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোকে ৮৫ বিলিয়ন টাকা পরিশোধ করতে হবে।

এভাবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সম্পদ ২ বিলিয়ন ডলার বাড়লে যুগপৎভাবে টাকায় এর দায়ও সমপরিমাণে বৃদ্ধি পায়। ব্যাংকগুলো এই পরিমাণ অর্থ প্রবাসী শ্রমিকদের পরিবারের হিসাবে পরিশোধ করে দেয়। তারপর পরিবারগুলো সেখান থেকে তাদের ইচ্ছা অনুযায়ী অর্থ খরচ করে, তবে তারা বৈদেশিক মুদ্রা পায় না; যা তাদের প্রবাসী স্বজনরা পাঠিয়েছিলেন। যখনই তারা অর্থটা খরচ করে, তখন পুরো রেমিট্যান্সই পরিবারের কেনা পণ্য ও সেবায় পরিণত হয়। সেদিক থেকে চিন্তা করলে তাহলে রেমিট্যান্স কীভাবে পুনরায় সরকার কিংবা অন্য কারো খরচ করার তহবিল হতে পারে?

রেমিট্যান্স ও দেশের অভ্যন্তরীণ আয়ের মধ্যে গুরুত্বপূর্ণ পার্থক্য হলো প্রথমোক্তটি বৈদেশিক মুদ্রায় উপার্জিত আর শেষোক্তটি দেশীয় মুদ্রায় উপার্জিত। অভ্যন্তরীণ বাজারের লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত করতে বৈদেশিক মুদ্রাকে দেশীয় মুদ্রায় রূপান্তর করতে হয়। বাংলাদেশ ব্যাংক যখন সমপরিমাণ টাকা বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোর নিজস্ব হিসাবে ক্রেডিট করে বৈদেশিক মুদ্রার রেমিট্যান্স কেনে, তখন আবশ্যিকভাবে তা দেশীয় মুদ্রাই সৃষ্টি করে। এই একটি ক্ষমতা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের আছে বৈকি। প্রবাসী পরিবারগুলোকে দেয়ার জন্য বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো মূলত বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে প্রাপ্ত অর্থই ব্যবহার করে। বৈদেশিক মুদ্রায় রেমিট্যান্স বাংলাদেশ ব্যাংকের ধারণকৃত আন্তর্জাতিক রিজার্ভের মজুদে যোগ হয়।

এটি বলা যায় যে রিজার্ভ বৈদেশিক ঋণ, বিদেশে প্রত্যক্ষ বিনিয়োগ ও পোর্টফোলিও ইনভেস্টমেন্টের মাধ্যমে স্ফীত হতে পারে, যেহেতু এগুলোকে লেনদেন ভারসাম্যে ঋণ আইটেম হিসেবে দেখানো হয় এবং তাই সেগুলো সার্বিক স্থিতিতে যোগ হয়। রফতানি কমা সত্ত্বেও রিজার্ভে উল্লম্ফনের একটা কারণ হলো সহায়তা ও ঋণের অর্থের বিপুল আন্তঃপ্রবাহ এবং রেমিট্যান্স বৃদ্ধির সঙ্গে আমদানি কম হওয়া। অতীতে অনেকবারই রিজার্ভের নিম্নমুখিতার সঙ্গে রেমিট্যান্সের বিপুল আন্তঃপ্রবাহ দেখা গেছে।

এ থেকে এটি স্পষ্ট, আন্তর্জাতিক রিজার্ভের পুঞ্জীভবন ঘটাতে রেমিট্যান্স একাই সাহায্য করে না, আরো কিছু অনুঘটকও এক্ষেত্রে কাজ করে। তবে এক্ষেত্রে রেমিট্যান্সকে অবশ্যই একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্ধারক বললেও ভুল হবে না।

৭০-এর দশকে বৈদেশিক শ্রমবাজারের উন্মোচন কয়েক মিলিয়ন কর্মীকে, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোয় কর্মসংস্থানের ক্ষেত্রে যাওয়ার সুযোগ করে দিয়েছে। দেশের মোট পরিবারের এক-ষষ্ঠাংশ—যাদের বেশির ভাগ তুলনামূলকভাবে নিম্ন আয়ের পরিবারভুক্ত—রেমিট্যান্সের মাধ্যমে বড় ধরনের আয় সমর্থন পায়, যা তাদের জীবনমান উন্নয়নে সহায়তা করে।

দেশের পুরো শিল্প খাতের শ্রমশক্তির চেয়ে বড় একটা জনশক্তির বিদেশে কর্মসংস্থান হয়, যা অভ্যন্তরীণ শ্রমবাজারে চাপ অনেকটা কমায়। সুতরাং এসব সুফল বিবেচনায় জনশক্তির বহিঃপ্রবাহ ও রেমিট্যান্সের আন্তঃপ্রবাহের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে বিশেষ মনোযোগ দেয়া।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme