1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
আমতলীতে গ্রামবাসীর টাকায় স্বেচ্ছা শ্রমে সেতু মেরামত - dipanchalnews
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ১২:৫৯ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ :
দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্নের দুয়ার খুলছে আজ হাইকোর্টে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত- বরগুনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হজ্জ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় হাত-পা বেঁধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার টাংগাইলে জাতীয় শিশু কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান- বরগুনায় ইসলামি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে সরকারি যাকাত ফান্ডের চেক বিতরণ জেলায় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত মাওঃ মুহাম্মদ ইউনুস আলী বরগুনায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত “প্রত্যাবর্তনের চার দশক,শেখ হাসিনার বদলে দেওয়া বাংলাদেশের,অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা”

আমতলীতে গ্রামবাসীর টাকায় স্বেচ্ছা শ্রমে সেতু মেরামত

  • আপলোডের সময় : সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০২১
  • ৫২ বার নিউজটি দেখা হয়েছে
sdr

জাকির হোসেন, আমতলী প্রতিনিধি : আমতলী উপজেলার মহিষডাঙ্গা গ্রামের সেতু ধসে ৬ গ্রামের ২০ হাজার মানুষের যোগাযোগ বন্ধের ৫২ দিন পর ভূক্তভোগী গ্রামবাসী মিলে লক্ষাধিক টাকা তুলে কাঠ, বাঁশ ও লোহা কিনে অর্ধশতাধিক মানুষ স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করে সেতু মেরামত করায় গ্রামের মানুষের মাঝে স্বস্থি ফিরে এসেছে। দীর্ঘদিন পর সেতু চালু হওয়ায় দুই গ্রামের মানুষের মধ্যে এক মিলন মেলা পরিনত হয়েছে। জানা গেছে ২৫ জুন শুক্রবার সন্ধ্যায় আমতলী উপজেলা চাওড়া খালের কাউনিয়া ও মহিষডাঙ্গা গ্রামের শাহিন মালাকার বাড়ির সামনের সংযোগ স্থানপন কারী লোহার সেতুটি ধসে পরে। সেতু ধসের ফলে ওই এলাকার মহিষডাঙ্গা, পূর্ব মহিষডাঙ্গা, হলদিয়া গ্রামের একাংশ, চলাভাঙ্গা গ্রামের একাংশ, নাচনাপারা গ্রামের একাংশ ও কাউনিয়াসহ ৬ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরে।

মানুষের ভোগান্তি লাঘবের জন্য কাউনিয়া ও মহিষডাঙ্গা গ্রামের মানুষ একটি সভা করে নিজেদের টাকায় স্বেচ্ছা শ্রমে সেতু নির্মানের সিদান্ত নেন। সিদান্ত অনুযায়ী স্থানীয় শামিম মালাকারসহ গ্রাম বাসীদের নিকট থেকে লক্ষাধিক টাকা তুলে তা দিয়ে বাঁশ, প্লাস্টিকের ড্রাম, লোহা ও দড়িসহ অন্যান্য উপকরন কিনে সোমবার সকাল থেকে প্রায় অর্ধ শতাধিক গ্রাম বাসী স্বেচ্ছা শ্রমে সেতু মেরাতের কাজ শুরু করেন। ধসে যাওয়া সেতুর স্থানে ৪০টি প্লাস্টিকের ড্রামের উপর লম্বা বাঁশ বেধে তার উপর তক্তা দিয়ে কাঠের পাটাতন তৈরী করে নির্মান করা হয়েছে চলাচলের পথ। সেতরু ভাঙ্গা জায়গা থেকে উপরের মুল সেতুতে উঠতে নির্মান করা হয়েছে একটি কাঠের সিড়ি। সোমবার দুপুরে সরেজমিন ঘুরে দেখা গেছে, প্রায় অর্ধশতাধিক লোক স্বেচ্ছা কাজ করছেন। কেউবা পানিতে ড্রাম বসিয়ে সারিবদ্ধ করছেন, আবার কেই তক্তা সাজিয়ে তার উপর লোহা পিটিয়ে আটকিয়ে দিচ্ছেন, কেউবা আবার মালামাল এগিয়ে দিচ্ছেন। দেখলে মনে হবে এ যেন এলাবাসীদের মধ্যে মিলন মেলার এক নজীর বিহীন দৃষ্টান্ত। এভাবেই চলছে সিতু মেরামতের কাজ। মহিষডাঙ্গা গ্রামের লতিফ ম্যালাকার জানান, আমতলী সদর ও চাওড়া ইউনিয়নের সংযোগ স্থাপনকারী চাওড়া খালের মহিষডাঙ্গা নামক স্থানের সেতুটি ভেঙ্গে দুই ইউনিয়নের ২০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পরে। সরকারী ভাবে সেতুটি মেরামত না হওয়ায় আমরা দুইপারের গ্রামবাসী মিলে লক্ষাধিক টাকা তুলে সেতুটি মেরামত করি। এতদিন আমরা দুই পারের মানুষ কারো সাথে কেউ যোগাযোগ করতে পারিনি। সেতুটি মেরামতের পর আবার চালু হওয়ায় আমরা অনেক আনন্দিত। কাউনিয়া গ্রামের স্থানীয় বাসিন্দা ইদ্রিস মুছল্লী বলেন, সেতুটি ধসের পর মাদরাসা, এতিম খানা এবং হাফেজি মাদরাসার ছেলে মেয়েদের লেখাপড়া বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই সেতু মেরামতের ফলে এখন থেকে ছেলে মেয়েরা আবার পরা শুনার জন্য মাদরাসায় এবং এতিমখানায় যেতে পারবে।

কাউয়িা ইব্রাহিম একাডেমীর ছাত্র মহিষডাঙ্গা গ্রামের বাসিন্দা এবছর এসএসসি পরীক্ষার্থী জুয়েরি, ইব্রাহিম, ফারজানান, আজিজ ও মিম বলেন, সেতু ধসের ফলে এতদিন আমরা প্রয়োজনীয় কাজে স্কুলে যেতে পারি নাই। আমাদের পরীক্ষার এসাইনমেন্ট জমা দেওয়ার জন্য ৮-১০ কিলোমিটার অতিরিক্ত পথ হলদিয়া ইউনিয়ন ঘুরে যেতে হত। এখন গ্রাম বাসী মিলে সেতু ঠিক করায় আমরা এখন নিয়মিত পরীক্ষার জন্য স্কুলে যাওয়া আসা করতে পারবো। স্বেচ্ছা শ্রমে কাজ করা ইব্রাহিম খান বলেন, সেতু ভাইঙ্গা যাওয়ায় মোরা ব্যামালা ভোগান্তিতে আছিলাম। হেই লইগ্যা নিজেরা মোরা টাহা উডাইয়া নিজেগো টাহায় সেতু মেরামত করতে আছি। সবাই মিল্ল্যা কাজ করেতে ব্যামালা ভালো লাগে। মাসুদ সন্নামত বলেন, ব্রিজ ভাইঙ্গা গ্যাছে, মোরা ব্যামালা দিন আডা চলা করতে পারি নাই। এহন নিজেরা বানাইয়া লইতে আছি। এহানে হগল গ্রামবাসী কাম করতে আছে। হের পর যারা আসতে পারে নাই হেরা আবার টাহা দিছে। মোগো গ্রামের ব্রিজ মোরা বানাইয়া আডমু।

আমতলী সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোতাহার উদ্দিন মৃধা বলেন, মহিষডাঙ্গা এবং কাউনিয়া গ্রামের লোকজন তাদের চলাচলের জন্য ধসে পরা সেতুটি নিজেদের টাকায় নিজেদের স্বেচ্ছা শ্রমে মেরামত করছে। এজন্য তাদের দন্যবাদ জানাই। দেশের সবাই যদি দেশের কাজে এভাবে এগিয়ে আসত তাহলে আমাদের সমাজের অনেক সমস্যা সমাধান হত।

আমতলী উপজেলা এলজিইডির প্রকৌশলী আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, সেতুটি ধসে পরার পর এখানে একটি গর্ডার সেতু নির্মানের জন্য প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ আসলে কাজ শুরু করা হবে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme