1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
সড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল ॥ প্রতিরোধে প্রয়োজন ট্রাফিক আইনের সঠিক ব্যবহার - dipanchalnews
মঙ্গলবার, ০৯ অগাস্ট ২০২২, ০২:১৪ অপরাহ্ন

সড়কে বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল ॥ প্রতিরোধে প্রয়োজন ট্রাফিক আইনের সঠিক ব্যবহার

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ৭ জুলাই, ২০২১
  • ১৬৮ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

এম.এস রিয়াদ: পত্রিকার পাতা ও টেলিভিশন খুললেই চোখে পড়ে বিভিন্ন ভাবে ঘটে যাওয়া সড়ক দুর্ঘনার খবর। যা কখনোই কারো কাম্য হতে পারেনা। সড়ক সংশ্লিষ্টরা সব সময়ই সুযোগবাদী। তবে সুযোগটা তৈরি হওয়ার পিছনে কোন না কোন ব্যক্তি কিংবা প্রতিষ্ঠান দায়ী। ট্রাফিক বিভাগ সড়ক দুর্ঘটনার মূল দায়ভার বহন করে। ড্রাইভিং লাইসেন্স ও গাড়ির রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি চালনা কেবল ট্রাফিক বিভাগের কারণেই সম্ভব হচ্ছে। এমন ধরণের সুযোগ শুরু থেকেই যদি না পেতো, তবে চলতনা লাইসেন্স ও রেজিস্ট্রেশনবিহীন গাড়ি। ঘটত না অনাকাঙ্খিত সড়ক দুর্ঘনা। সড়কে কিছু কিছু গাড়ি চলার আইন বৈধতা না দিলেও দেশজুড়ে স্থানীয় ট্রাফিক বিভাগের ছত্রছায়া ও মাসিক মাসোয়ারায় চলে নির্দিধায় এসকল ফিটনেসবিহীন অবৈধ গাড়ি। যার মধ্যে লড়ি, টমটম, ট্রাক্টর অন্যতম। রেন্ট-এ-কারে চালিত অটোরিক্সা ও মটর সাইকেল থেকে নেয়া হয় দশের ঘরের একটি অর্থ। বিনিময়ে গায়ে হাওয়া লাগিয়ে চলছে এসকল যানবাহন। অটোরিক্সার নেই কোন ধরণের বৈধতা। হাইড্রলিক হর্ণ বাজিয়ে করছে শব্দ দূষণ। ফলে সৃষ্টি হচ্ছে কান, মাথা ব্যাথা ও উচ্চ রক্তচাপের কারণ। গতির তুলনায় নেই থামানোর মতো ব্যবস্থা। সার্চ লাইটের মতো প্রখর আলোয় সামনে থেকে আসা গাড়ি আচমকাই গতি হারিয়ে দুর্ঘটনার শিকার হয়। যার ফলে অটোরিক্সায় ঘটছে অহরহ সড়ক দুর্ঘটনা।

বরগুনাতে স্থানীয় ভাবে বিষয়গুলো যথাযথ কর্তৃপক্ষের দৃষ্টিতে আনতে দৈনিক দ্বীপাঞ্চল পত্রিকা ও জাতীয় দৈনিক বাংলাদেশ জার্নালে (অনলাইন) কয়েক ধাপে করা হয়েছে ফলোআপ নিউজ। তবুও যেনো না দেখার ভানে চলছে সবটাই। বরগুনা জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের আইন-শৃঙ্খলা মিটিংএ বড় কোন গাড়ি শহরে প্রবেশ করার সময় বেঁধে দেয়া হলেও বরগুনার ট্রাফিক বিভাগের ইন্সপেক্টর মোঃ সেলিম বিষয়টি জানেন না বলে জানিয়েছেন। তিনি যেভাবে চালাচ্ছেন শহরের ট্রাফিক সেক্টর তাতে আধ্যাত্মিক ক্ষমতা রয়েছে বলে মনে করছেন আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল গাড়ি চালকরা। টাকায় কমতি হলেই জায়গায় মামলা বসিয়ে আইনের অপব্যবহার করেন তিনি। কাগজপত্র সঠিক থাকলেও নেয়া হয় একটি বিশেষ চাঁদা। যা পৌরসভার টোলম্যান উঠিয়ে থাকেন। সন্ধ্যার পরে বরগুনা ট্রাফিক মোড়ে থাকা মিষ্টির কিংবা চায়ের দোকানে ভাগবাটোয়ারা হলেও মানুষের চোখে পড়ায় এখন তা গোপন কোন স্থানে লেনদেন করেন। এ নিয়ে বরগুনার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মেহেদী হাসান ট্রাফিক বিভাগের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষ ও গাড়ি চালকদের মানববন্ধন না করার অনুরোধ জানিয়ে একটি সমাধানের মধ্যে নিয়ে আসেন। তিনি উভয়কেই সড়কে চলতে সাবধানতা ও আইনের সঠিক ব্যবহার এবং প্রয়োগ করতে বলেন। কিন্তু এ কর্মকর্তার কথা অমান্য করে আজও থামেনি অবৈধ গাড়ির দৌঁড়ত্ব। করোনার শুরু থেকে এ পর্যন্ত কঠোর লকডাউনের মধ্যেও সরকারের বিধিনিষেধকে উপেক্ষা করে শহরতলীর কিছু স্থান (সোনারবাংলা, গৌরিচন্না, চান্দখালীসহ গ্রামের কিছু স্থান) থেকে সন্ধ্যার পরে বরগুনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া হাইয়েক্স গাড়িতে বহন করা হচ্ছে অতিরিক্ত ভাড়ায় যাত্রী।

বিষয়টি বরগুনা ট্রাফিক বিভাগের কর্মকর্তা ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) সেলিমকে জানালেও তিনি নেননি কোন ধরণের ব্যবস্থা। বরং সামান্য কিছু অর্থের লোভে সড়কে চলতে দেয়া হচ্ছে এসকল অবৈধ গাড়ি। এমন যদি হয় সড়কের আইন ব্যবহারকারী সংস্থার কাজ, তবে কিভাবে কমবে সড়ক দুর্ঘনা? কথায় নয় বরং কাজে দক্ষতা, সচ্ছতা ও জবাবদিহীতার মধ্যে না থকলে কখনোই সঠিক পথে এগোবেনা দেশ। হবেনা আইনের সঠিক ব্যবহার। এভাবে একদিন অকালে ঝড়তে হতে পারে সুযোগ দেয়া ট্রাফিক সদস্যদের প্রাণ। তাই প্রতিটি মহলকেই আইনের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে মান্য করা উচিত বলে মনে করেন সচেতন ও সুশীল সমাজ। তবেই কমবে সড়কে অকালে মৃত্যুর মিছিল। সাধারণ মানুষ পুলিশ প্রশাসনের উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সুদৃষ্টি কামনা করছেন। কামনা করছেন আর অকালে মৃত্যুর কোলে যেনো কারো ঢলে পড়তে না হয়। সড়ক পথে নিজেদের ইচ্ছেমতো গাড়ি না চালিয়ে নিয়মের মধ্যে চলবে সকল যানবাহন। তারা বিশ্বাস করেন সড়কে আইনের সঠিক প্রয়োগ সড়কে মৃত্যুর মিছিল কমাতে পারে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme