1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
বরগুনা পৌর নির্বাচন ॥ আঃলীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীপাঁচ ॥ সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি - dipanchalnews
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০৩:২০ অপরাহ্ন

বরগুনা পৌর নির্বাচন ॥ আঃলীগে মনোনয়ন প্রত্যাশীপাঁচ ॥ সিদ্ধান্তহীনতায় বিএনপি

  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০
  • ৮২৪ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

স্টাফ রিপোর্টার : সম্প্রতি নির্বাচন কমিশন আগামী বছরের জানুয়ারি মাসে বরগুনা পৌরসভার নির্বাচন অনুষ্ঠানের ঘোষণা দেয়ার পর থেকে পাল্টে গেছে শহরের রাজনৈতিক পরিস্থিতি। সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা প্রতিদিনই প্রচার প্রচারণা ব্যস্ত সময় কাটাচ্ছেন। এবারই প্রথম বরগুনা পৌর নির্বাচনে ভোট গ্রহণ করা হবে ইভিএমে।
ইতোমধ্যে সমর্থকদের নিয়ে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন বর্তমান পৌর মেয়র ও পৌর আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক মো. শাহাদাত হোসেন, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও জেলা যুবলীগের সভাপতি অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ, সাবেক পৌর মেয়র অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া, জেলা আওয়ামীলীগের সহ-সভাপতি আলহাজ্ব মো. হুমায়ুন কবীর এবং বরগুনা পৌরসভার প্যানেল মেয়র ও জেলা আওয়ামীলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মো. রইসুল আলম রিপন। বিএনপি জেলা কমিটির সাধারন সম্পাদক আৎ হালিম ফেইজবুক ষ্টাটাসে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে ঘোষনা দিলেও কোন কার্যক্রম নেই। জেলা বিএনপি’র সভাপতি মো. নজরুল ইসলাম মোল্লা জানান, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনে অংশ গ্রহনে কেন্দ্রের সিদ্ধান্ত প্রক্রিয়াধীন । নির্দেশ পেলে আমরা অংশগ্রহণ করবো।
২০১১ সালের মার্চ মাস থেকে টানা দুই মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করছেন মো. শাহাদাত হোসেন। করোনাকালীন লকডাউনের সময়ে তার মাধ্যমে কর্মহীন ৬ হাজার ৯ শ’ পরিবার পরে ১২ শ’ জনকে খাদ্য সহায়তাসহ বিভিন্ন দান-অনুদান দিয়েছেন বলে জানান বরগুনার বর্তমান এ পৌর মেয়র। বরগুনার বিভিন্ন অস্বচ্ছল ও অসহায় মানুষকে আর্থিক সহায়তার কারণে কর্মজীবী মানুষের মধ্যে তার জনপ্রিয়তা তৈরি হয়েছে। এছাড়াও পৌরসভায় মাস্টাররোলে কয়েক শ’ কর্মচারী ও তাদের পরিবারের দেখভাল করার কারণে তার একটি ভোটব্যাংক তৈরি হয়েছে বলে মনে করেন তিনি। তার এ দুই মেয়াদে বরগুনা পৌরসভায় সবথেকে বেশি বরাদ্দ এসেছে। ইতোমধ্যে শহরের নাথপট্টি লেক, মাছ বাজার ভবন, সিরাজ উদ্দিন মিলনায়তন, টাউন হল ভবন, টাউন হল চত্বরে মুক্তি যুদ্ধের ভাস্কর্য্য নির্মান, বরগুনা সার্কিট হাউস মাঠে ঈদগাহ নির্মাণ, আধুনিক বাসস্ট্যান্ড, কয়েকটি খাল খনন, ওভারহেড পানির ট্যাংকি নির্মাণ, পৌরসভার প্রায় সকল রাস্তার সংস্কার, প্রশস্তকরণ ও সৌন্দর্যবর্ধনে তিনি অনেক কাজ করেছেন বলে দাবী করেন। তবে সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ঘোষনা “ইতি পূর্বের কোন বিদ্রোহী প্রার্থীকে মনোনয়ন দেয়া হবে না” যদি বাস্তবায়িত হয় তবে বর্তমান মেয়র মোঃ শাহদাত হোসেনের নৌকা প্রতিক পাওয়া অনিশ্চিৎ হয়ে পরতে পারে।
আওয়ামীলীগের সমর্থন নিয়ে ১৯৯৯ সালের ১৮ মার্চ থেকে ২০১১ সালের ১০ ফেব্র“য়ারি পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে মেয়রের দায়িত্ব পালন করেন অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া। এর মধ্যে দ্বিতীয় মেয়াদে ২০০৪ সালের ৬ মে চার দলীয়ে জোট সরকার ক্ষমতায় থাকাকালে মনোনীত প্রার্থী জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এস,এম, নজরুল ইসলামকে পরাজিত করে তিনি নির্বাচিত হন। অ্যাডভোকেট মো. শাহজাহান মিয়া বলেন, আসন্ন পৌরসভা নির্বাচনে আমার দলের মনোনয়ন পেলে নৌকা প্রতিক নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চাই। তিনি আরো বলেন নাথপট্টি লেক, ওভারহেড ট্যাংকি, আধুনিক বাসস্ট্যান্ড, মাছবাজার বেজমেন্ট উঁচুতল ভবন, শিশুপার্কসহ বরগুনার ১৬টি স্পট বিউটিশিয়ান করার পরিকল্পনা আমার নেয়া ছিল। কিন্তু আমার সময়ে বরাদ্ধ আসেনি বলে বাস্তবায়ন করতে পারিনি। আমি দলমত নির্বিশেষে সকলের সহযোতিগতা চাই। নির্বাচিত হওয়ার সুযোগ পেলে ব্যক্তিস্বার্থের ঊর্ধ্বে থেকে নিজেকে কর্মে নিয়োজিত রাখবো। দলীয় মনোনয়ন না পেলে দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবো।
অ্যাডভোকেট কামরুল আহসান মহারাজ বলেন, বিগত নির্বাচনে আমাকে পরিকল্পিত ভাবে ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে পরাজিত করা হয়েছে। এবারেও আমি দলীয় মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করবো। অন্যথায় দল যাকে মনোনয়ন দেবে তার পক্ষে কাজ করবো। আমার কাছে ব্যক্তির চেয়ে দল বড়। দলের সকল নেতা-কর্মীদের সাথে আমার যোগাযোগ আছে এবং আমি সকলের সব সময় খোঁজ-খবর রাখছি। আমার বিশ্বাস দলের প্রতি আমার ত্যাগ ও বিগত নির্বাচনের কথা বিবেচনা করে দল আমাকে মনোনয়ন দেবে।
জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি, সংগঠনের জেলা সেক্রেটারী আলহাজ্ব মোঃ জাহাঙ্গীর কবীরের ছোট ভাই দলের জন্য নিবেদিত প্রান, ত্যাগী নেতা আলহাজ্ব হুমায়ুন কবিরকে ইতিপূর্বে কয়েকবার দল থেকে বরগুনা পৌর নির্বাচনে মনোনয়ন দেয়ার কথা উঠলেও শেষ পর্যন্ত একবারও দলীয় মনোনয়ন পাননি তিনি। তার পরেও তার কোন ক্ষোভ নেই। তিনি মনে করেন বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিকেরা কখনো দলের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারেনা। তবে এবারে তিনি আশাবাদী দলের প্রতি তার ত্যাগের কথা বিবেচনা করে এবারে দল তাকে মনোনয়ন দেবে।
বরগুনা পৌরসভায় মেয়র পদে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশী টানা কয়েকবার নির্বাচিত পৌর কাউন্সিলর ও বর্তমান পৌরসভার প্যানেল মেয়র রইসুল আলম রিপন বলেন “আমি বারবার কাউন্সিলর নির্বাচিত হয়ে পৌর বাসীর কল্যানে কাজ করেছি। মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাড়িয়েছি। তাই জনগন আমাকে পৌর মেয়র হিসেবে দেখতে চায়। জনমত জড়িপে আমি ইনশল্লাহ মনোনয়ন পাব। তিনি মনোনয়নের জন্য সকলের দোয়া কামনা করেন।
নির্বাচন বিশ্লেষকরা বলছেন আওয়ামীলীগের যদি কোন বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকে আর বিএনপি যদি নির্বাচনে না আসে তবে আওয়ামীলীগের মনোনীত প্রার্থী বিনা প্রতিদ্ধন্ধিতায় নির্বাচিত হতে পারেন। সে ক্ষেত্রে ভোট হতে পারে শুধু কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে।
বরগুনা পৌরসভায় মোট ভোটারের সংখ্যা প্রায় ২৪ হাজার। এর প্রায় অর্ধেক নারী ও অর্ধেক পুরুষ। সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশের মধ্যদিয়ে নিজেদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারাই সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme