1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
সরকারের অর্থ লোপট ॥ জনগনের সীমাহীন ভোগান্তি বরগুনায় সড়ক বিভাগের পূর্বের টেন্ডারের কাজ শেষ না করেই বরগুনা সদর রোডের নতুন রাস্তা ভেঙ্গে মেরামতের নামে কাজ শুরু - dipanchalnews
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৫ অপরাহ্ন

সরকারের অর্থ লোপট ॥ জনগনের সীমাহীন ভোগান্তি বরগুনায় সড়ক বিভাগের পূর্বের টেন্ডারের কাজ শেষ না করেই বরগুনা সদর রোডের নতুন রাস্তা ভেঙ্গে মেরামতের নামে কাজ শুরু

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১ জুলাই, ২০২০
  • ৫১৫ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

দ্বীপাঞ্চল প্রতিবেদক : গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক মহাসড়ক যথাযথ মান ও প্রশস্ততায় উন্নীত করণ প্রকল্প এর আওতায় বরগুনা সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগ পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া মহাসড়কের কিছু অংশের পূর্বে টেন্ডারের পুরো কাজ শেষ না করেই তরিঘরি করে বরগুনা পৌর-শহরের ভিতরের প্রধান সদর সড়কের ২কিঃমিঃ নতুন (সম্প্রতি করা) রাস্তা সংস্কারের নামে ভেঙ্গে কাজ শুরু করায় জনগনের চলাচলে ভোগান্তির সৃষ্টি হয়েছে। জনগনের প্রশ্ন হচ্ছে, কেন-কিসের জন্য ও কার স্বার্থে সংস্কারের নামে এ নতুন রাস্তাটি ভাঙ্গা হলো? জানাগেছে,৩টি প্যাকেজে পটুয়াখালী-আমতলী-বরগুনা-কাকচিড়া মহাসড়ক অংশের ২০.৬৫ কিঃমিঃ রাস্তা প্রশস্ত করার উদ্যোগ নেয় বরগুনা সড়ক বিভাগ। এর মধ্যে বরগুনা পৌর-শহরের টাউন হল বাসস্টান্ড থেকে ক্রোক ব্রীজ পর্যন্ত ২ কিঃমিঃ নতুন রাস্তা বাদে। এতে বরাদ্দ করা হয় ৯৪ কোটি ৬৯ লাখ ৬৯ হাজার টাকা। এর মধ্যে পুরাকাটা- বরগুনা-বড়ইতলা মহাসড়ক অংশের পৃথক ২টি প্যাকেজের একটির কাজ (ইটবাড়িয়া থেকে টাউন হল পর্যন্ত ৬.৮০০ কিঃমিঃ) নলসিটি ঝালকাটির মো. মাহফুজ খান লিঃ কার্যাদেশ পাওয়ার আড়াই মাস পড়ে কাজ শুরু করে আজ অবধি শেষ করতে পারেনি। পূর্বের টেন্ডারের (ইটবাড়িয়া থেকে টাউন হল পর্যন্ত ) কাজ শেষ করতে না করতেই আবার পৌর শহরের টাউন হল বাসস্টান থেকে ক্রোক ব্রীজ পর্যন্ত ২কিঃমিঃ নতুন রাস্তা ভেঙ্গে পূনঃনির্মানের কাজ পায় ঐ একই ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান ।

এ মহা সড়কের এক (রাস্তার) অংশের কাজ শেষ না করে শহরের ভিতরের নতুন (সম্প্রতি করা) অংশ ভেঙ্গে কাজ করায় যেন মরার উপর খড়ার ঘাঁ। একে তো বর্ষা মৌসুম তার পরে বর্তমান বৈশিক করোনা ভাইরাস মহামারি বিপর্যয় কালীন সময় শহরের (সদর রোড) ২ কিঃমিঃ নতুন রাস্তা ভেঙ্গে জনগনের চলাচলে ভোগান্তি সৃস্টি করার কারণ কী ? তা সড়ক বিভাগ ছাড়া আর কারো বোধগম্য নয়। নতুন রাস্তাটি ভেঙ্গে পূর্ণনির্মানে জন্য বালু ও পাথর ফেলায় বর্ষার কারণে জনগনের চলাচলে সীমাহীন র্দূভোগ পোহাতে হচ্ছে। অপরদিকে বরিশালের ওহিদ কনস্ট্রাকশন ও মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ এবং ওরিয়েন্ট ট্রেডিং এন্ড বির্ল্ডাস বড়ইতলা ফেরীঘাট থেকে ক্রোক ব্রীজ ও পুরাকাটা থেকে ইটবাড়ীয়া পর্যন্ত ৯.২০ কিঃমিঃ রাস্তার কাজ পায়। এরই মধ্যে পুরাকাটা থেকে ইটবাড়ীয়া পর্যন্ত সম্প্রতি রাস্তার কাজ শেষ করা হলেও নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী ব্যবহার করায় বর্ষায় রাস্তার কিছু অংশে বড় বড় গর্ত হয়ে পীচ ডালা (নতুন) রাস্তা ভেঙ্গে পড়েছে। অপর অংশ বড়ইতলা ফেরীঘাট থেকে শহরের ক্রোক সুলিজ পর্যন্ত রাস্তার মাঝপথে বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই এবং উত্তর পাশে খাকদোন নদী ভাংগনের কিছু অংশে কোন পাইলিনং না বসিয়ে কোন রকমের রাস্তা নির্মান কাজ শেষ করার উদ্যোগ নিচ্ছে ঠিকাদারী কর্তৃপক্ষ। আর এ যেন দেখার কেউই নেই। সড়ক বিভাগ বারবার এ রাস্তা টেন্ডার দিয়ে ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানের সাথে ভাগাভাগি করে সরকারের বরাদ্দের বিরাট অংকের অর্থ লোপাট করার পাঁয়তারা চালাচ্ছে বলে সাধারন মানুষের ধারনা।

এ রাস্তা দিয়ে চলাচলকারী পথচারী মাহবুব খোকাসহ কয়েকজন এ প্রতিবেদককে জানান, আমরা আশ্চর্য হয়েগেছি নতুন রাস্তা কেন ভাঙ্গছে। পুরাকাটা থেকে টাউন হল পর্যন্ত নিন্ম মানের নির্মাণ সামগ্রী দিয়ে কাজ চলছে ধীর গতিতে। তাছাড়া বর্ষার সময় শহরের প্রান কেন্দ্রের এ নতুন রাস্তা নির্মান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অনেকে ব্যাপক সমালোচনা করেছে। পথচারীদের চলাচলে গুনতে হয়েছে তিন থেকে চার গুন ভাড়া। কৃষকলীগ নেতা আলহাজ্ব আজিজুল হক স্বপন এ প্রতিবেদকে মুঠোফোনে বলেন,বর্ষার সময় কাজ করায় কাজের মান খুবই খারাপ হচ্ছে। বিদ্যুতের খুঁটি না সড়িয়েই তারা কাজ করছে। প্রায়ই এ সড়কে র্দূঘনা ঘটছে।পাইলিং ঠিকমত বসাচ্ছে না কোন রকম রয়তয় করে তারা কাজ করে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান নিন্মমানের নির্মান সামগ্রী ব্যবহার করা হচ্ছে। বিশেষ করে বর্ষার সময় কাজটি করায় কাজ ভাল হচ্ছে না, জনসাধারনকে ব্যাপক দূর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। এ ব্যাপারে মাহফুজ খান লিঃ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান প্রজেক্ট প্রকৌশলী এমডি সজীব হোসেন জানান,বৃষ্টি কারণে কাজ ধীর গতিতে চলছে। সদর সড়কের নতুন রাস্তা ভেঙ্গ রাস্তা নির্মাণের কার্যাদেশের তারিখ ও কাজ শেষ হওয়ার তারিখ তিনি জানেন না, অফিস জানে।

নিন্ম মানের কাজের বিষয়ে কথা বলতে মেসার্স কহিনুর এন্টারপ্রাইজ ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের প্রজেক্ট প্রকৌশলী এমডি রাজীব হোসেন এর মোবাইলে কল দিলে তা বন্ধ পাওয়া যায়। বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো.হায়দার কামরুজ্জামান এর কাছে শহরের সদর সড়কের নতুন রাস্তা ভেঙ্গে কী কারনে এটা সংস্কার হচ্ছে ? এবং জনগনকে কষ্ট দিয়ে করোনা কালে এ রাস্তাটি করার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি এ প্রতিবেদকে জানান, এ রাস্তা আঞ্চলিক মহাসড়কের বাহিরে। শহর অঞ্চলের আওতায় রাস্তাটি নির্মান হচ্ছে । তাছাড় এ ২ কিঃমিঃ রাস্তা বরিশাল অঞ্চলিক অফিস থেকে ১ বছর আগে টেন্ডার হয়েছে আমার অফিস (বরগুনা অফিস) টেন্ডার দেয়নি। পুরাকাটা থেকে ইটবাড়ীয়া পর্যন্ত সম্প্রতি নতুন করা রাস্তার ভেঙ্গে পড়া ও ইটবাড়িয়া থেকে টাউন হল পর্যন্ত রাস্তা নির্মাণে ধীর গতি বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কাজ চলমান আছে যেটুকু ভেঙ্গে গেছে তা ঠিকাদার সেড়ে দিবেন এবং আইনগত জঠিলতার কারণে কাজ শেষ হতে একটু বিলন্ব হচ্ছে।

বড়ইতলা ফেরীঘাট থেকে শহরের ক্রোক ব্রীজ পর্যন্ত বিদ্যুতের খুঁটি রেখেই এবং উত্তর পাশে নদী ভাঙ্গন অংশে কোন পাইলিনং না বসিয়ে কোন রকমের রাস্তা নির্মান কাজ শেষ করার ব্যাপারে তার কাছে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিদ্যুতের খুঁটি সড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। নদী ভাঙ্গনের ফলে পাইলিং করানো যাচ্ছে না, তবে কাজ চলমান আছে। পাইলিং করানো হবে। উল্লেখ্য এর পূর্বে ১১ জুন ২০১৮ বরগুনা সড়ক ও জনপথ বিভাগের উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী শামসুল শাহরিয়ার ভুইয়াকে (বরগুনা সওজ ) অফিস থেকে সাড়ে ১৪ লাখ টাকা ঘুষের টাকাসহ হাতেনাতে আটক করেছিল দুদক।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme