1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই কলাপাড়ায় ভাঙন - dipanchalnews
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৭ অপরাহ্ন

বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই কলাপাড়ায় ভাঙন

  • আপলোডের সময় : মঙ্গলবার, ২৩ জুন, ২০২০
  • ২৯৫ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

এইচ,এম,হুমায়ুনকবির কলাপাড়া(পটুয়াখালী) : বর্ষা মৌসুম শুরু হতে না হতেই পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নে বিভিন্ন নদীতে পানি বৃদ্ধির ফলে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতে তলিয়ে যেতে শুরু করেছে নদীর তীরবর্তী ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি। বর্ষা মৌসুমের আগেই রাবনাবাঁধ, আন্দারমানিক ভাঙ্গনে দিশেহারা নদী তীরবর্তী বাসিন্দা।
ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হতে শুরু করেছে বসতভিটা আবাদী জমিসহ বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে মহিপুর,লালুয়া,চম্পাপুর , ধুলাসার ইউনিয়নে নিশ্চিহ্ন নদীর তীরবর্তী এলাকার মানুষের দিন কাটছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। মহিপুর , লালুয়া,চম্পাপুর, ধুলাসার ভয়াবহ ভাঙ্গন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় তাদের মাঝে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে আমফানের আঘাতে ভেঙ্গে যাওয়া লালুয়া ও নিজামপুর
তীরবর্তী কলাপাড়া উপজেলার ১২টি ইউনিয়নের ১০কিলোমিটারের ক্ষতিগ্রস্ত। তবে জরুরী ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধের স্থায়ীভাবে পুনর্র্নিমাণ ও নদী ভাঙ্গন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট উর্ধতন কর্মকর্তাদের কাছে জোর দাবি করেছেন ওই উপজেলার বাসিন্দা।

এরই মধ্যে লালুয়ার চারিপাড়া কয়েক পরিবারের বসতভিটা নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। যেভাবে নদী ভাঙছে, তাতে শিগগিরই চারিপাড়া ও নদীতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা করছে এলাকাবাসী। ভয়াবহ নদীভাঙনের কবলে পড়ে সর্বস্বান্ত হওয়ার উপক্রম হয়েছে জেলে পরিবার। ঘূর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে উপজেলার মহিপুর ইউনিয়নের নিজামপুর গ্রামের বন্যানিয়ন্ত্রন বাঁধটি ক্ষত-বিক্ষত হয়ে ভয়াবহ অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে।

অমাবস্যা-পূর্ণিমার কিংবা জোয়ারে আন্ধারমনিক নদীর খরস্রোত উত্তাল ঢেউ আছড়ে পরছে বাঁধের উপর। এতে প্রতিনিয়ত ভাঙছে এ বাঁধটি। প্রায় দু’কিলোমিটার জুড়ে এমন অবস্থার সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে পাঁচটি গ্রামের হাজার হাজার কৃষক পুনরায় পানিবন্দিসহ আর্থিক ক্ষতির শংকায় রয়েছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।

সরেজমিনে গিয়ে জানা গেছে, ২০০৭ সালের ১৫ নভেম্বর ঘূর্নিঝড় সিডরে নিজামপুর গ্রামের পাউবো’র ৪৭/১ পোল্ডারের বেরিবাঁধের বিভিন্ন অংশে ভাঙ্গন দেখা দেয়। এর পর ২০০৮ ঘূর্নিঝড় নার্গিস, ২০০৯ আইলা, ২০১৩
মহাসেন, ২০১৫ কোমেন, ২০১৬ রোয়ানু, ২০১৭ মোরা,
২০১৯ ফণী ও বুলবুল এবং ২০২০ আম্ফানের তান্ডবে নিজামপুর বাঁধটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়। বেশ কয়েকবার সংস্কারসহ তিনবার পুনর্নির্মাণ হলেও সাগর মোহনা আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক উচ্চতার জোয়ারে পানি ভাঙন কবলিত অংশ দিয়ে লোকালয়ে প্রবেশ করে। দফায় দফায় প্লাবিত হয় ওই ইউনিয়নের পুরান মহিপুর, ইউসুফপুর, নিজামপুর, কোমরপুর ও সুধিরপুর গ্রামের অন্ততঃ তিন হাজার একর জমি।
দীর্ঘ ১২ বছরে কাঙ্খিত ফসল পায়নি কৃষকরা। এছাড়া বন্ধ হয়ে যায় বাঁধ সংশ্লিষ্ট একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে নদী ভাঙন রোধে পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্মাণ করে দেয় রিং বেরিবাঁধ। সর্বশেষ ঘূর্নিঝড় আম্ফানের তান্ডবে এ বাঁধটি ফের বিভিন্ন স্থান ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে।

লালুয়া ইউনিয়ন পরিষদ সূত্রে জানা যায়, শুধু চাড়িপাড়া গ্রাম নয়, রাবনাবাদ নদের জোয়ারের পানি এই গ্রাম দিয়ে ঢুকে পাশের বানাতিপাড়া, নয়াকাটা, চৌধুরীপাড়া, নাওয়াপাড়া, ছোট পাঁচ নং, বড় পাঁচ নং ও মুন্সীপাড়া গ্রাম পানিতে প্লাবিত হয়েছে। নতুন করে পশুরবুনিয়া গ্রামটিতেও পানি প্রবেশ করেছে। খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ঘূর্ণিঝড় আমফানে রাবনাবাঁধ নদ ও আন্দারমানিক নদীর প্রবল জোয়ারের তোড়ে উপজেলার লালুয়া, নিজামপুর চম্পাপুর ,বালীয়াতলী ,মিঠাগঞ্জ,লতাচাপলী ইউনিয়নের বেশির ভাগ এলাকার বেড়িবাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়। হাজারো মানুষের সহায় সম্পদ হারাণোর আর্তনাদে ক্রমশ ভারি হচ্ছে নিজামপুর ও চারিপাড়া গ্রামে। প্রতিদিনই ভাঙ্গছে নতুন করে একেকটি পরিবারের স্বপ্ন। সাগর ও নদীর প্রতিটি জোয়ারে ভাসিয়ে নিয়ে যাচ্ছে বসত ঘর, আবাদি জমি ও মাথা গোঁজার শেষ আশ্রয়টুকু। নিঃস্ব হতে হতে এই গ্রামের মানুষের শেষ সম্বল এখন শুধুই বেঁচে থাকার আকুতি। গত দেড় যুগ ধরে রামনাবাদ নদ’র ভাঙ্গনে নয়াকাটা গ্রামটি মানচিত্র থেকে মুছে যাওয়ার পর এখন চারিপাড়া গ্রামটিও বিলীন হওয়ার মুখে। বর্ষা মৌসুমের আগেই গত কয়েকদিন ধরে নদীভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে এ এলাকার মানুষ। বিষয়টি পানি উন্নয়ন বোর্ডকে জানানোর পর তারা ঘটনাস্থল পরির্দশন করেছে। তারা শিগগিরই ভাঙন প্রতিরোধে কার্যকরী ব্যবস্থা নেয়ার আশ্বাস দিয়েছেন।

অন্য দিকে ঘূর্ণিঝড় আমফানের আঘাতে নিশ্চিহ্ন আন্দারমানিক নদী তীরবর্তী এলাকার হাজারো পরিবারের দিন কেটেছে চরম উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও আতঙ্কের মধ্য দিয়ে। ভয়াবহ ভাঙন ও তীর রক্ষা বাঁধ ধসে যাওয়ায় ভিটেমাটি
হারানোর আশঙ্কায় তাদের মধ্যে এ আতঙ্ক দেখা দিয়েছে।

বর্ষা মওসুমে পুরো বাঁধ ভেঙে গেলে অরক্ষিত হয়ে পড়বে গোটা কলাপাড়া উপজেলা। হুমকিতে পড়বে উপজেলা
নিজামপুর ও চারিপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ।

সূত্র মতে, দেড় যুগের অধিক সময় ধরে নদীর ভাঙন অব্যাহত রয়েছে। ইতোমধ্যে ভাঙনে বিলীন হয়ে গেছে অসংখ্য রাস্তাঘাট, হাজার হাজার একর ফসলি জমি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও বহু স্থাপনা। বর্তমানে হুমকির মুখে পড়েছে উপজেলা লালুয়ার চারিপাড়ার স্কুল।

ঘূর্ণিঝড় আমফানে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়িবাঁধ মেরামত করতে না পারায় উপকূলের অনেক লোকালয়ে এখনো চলছে জোয়ারভাটার। ফলে নদীর সাথে তাল মিলিয়ে রীতিমতো জোয়ারভাটার মধ্যে বসবাস করছে উপকূলীয় দুর্গত জনপদের হাজার হাজার পরিবার। উপকূলের মানুষ বাধ্য হয়ে উঁচু বাঁধের ওপর মানবেতর জীবনযাপন করছে। তবে দু্রত স্থায়ী ও টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করা না হলে নদীতে বিলীন হয়ে যাবে উপকূলের অনেক গ্রাম।

চারিপাড়া ভাঙ্গা বেড়িবাঁধের পাশে ঝুপড়ি টিনের ঘর করে আশ্রয় নিয়েছে জবান আলী মৃধা। নদী ভাঙ্গনে নিঃস্ব এই পরিবারটি আবার ভাঙ্গনের মুখে। পেশায় জেলে জবান আলীর

স্ত্রী রাহিমা বেগম বলেন, “জোয়ার হইলেই ঘরে পানি ওডে। গত জোবায় (অমাবশ্যায়) তো ঘরের মাচায় উইটটা বইয়া থাকতে হইছে রাইতে। ঘরে ছোড মাইয়া। রাইতে জোয়ার হইলে বড় বড় চাঙ্গইল লইয়া বান্দের মাডি পড়ার শব্দ হুনি।বুকের মধ্যে তহন ধরফর শুরু হয়। আরতো দশ হাতও নাই বান্দের। সামনের জোবায় মনে হয় আর এইহানে থাকতে পারমু না।’
নিজামপুর বাঁধের উপর দাঁড়িয়ে কৃষক মো.আশ্রাফ উদ্দিন বিশ্বাস দীর্ঘশ্বাস ছেড়ে বলেন, আন্ধারমানিক নদীর অস্বাভাবিক জোয়ারের তান্ডবে ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীর পানির চাপ বাড়লে এ বাঁধটি যে কোন মুহুর্তে ছুটে যেতে পারে। তখন যাওয়ার আর কোন জায়গা থাকবেনা বলে তিনি জানিয়েছেন।

সিডরের পর থেকে নিজামপুর পাঁচ গ্রামের মানুষ দশ বছর যাবৎ জমিতে কোন চাষ করতে পারিনি। এর পর পানি উন্নয়ন বোর্ড জনগনের দূভোর্গ লাগবে এখানের রিং বেরিবাধ করে দেয়। কিন্তু সুপারসাইক্লোন আম্ফানের তান্ডবে এ বাঁধটি ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। দুই বছর ধরে চাষ শুরু করছি। এখন আবার নতুন করে আতঙ্কে ভুগছি।

চারিপাড়া স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য মো. রাকিবুল ইসলাম বলেন, ‘জোয়ারের চাপ বাড়লেই পানিতে ডুবে যায় পুরো গ্রাম। অবস্থা এমন হয়েছে এখন প্রতিনিয়ত পানির সঙ্গেই গ্রামের মানুষকে বসবাস করতে হচ্ছে। মাসের পর মাস পানি আটকে থাকায় এখানের বাসিন্দাদের রোগব্যাধি লেগেই থাকে।’

মহিপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আঃ ছালাম আকন জানান, এ এলাকার বেশিরভাগ মানুষই মৎসজীবী। আবার কেউ কৃষিকাজ করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এই ইউনিয়নের নিজামপুর ও সুধীরপুর গ্রাম সাগরের মোহনায় সংলগ্ন।
শুধু অমাবস্যা-পূর্ণিমাই নয়, জোয়ার ভাটার সাথে যুদ্ধ করে বেঁচে থাকতে হয় তাদের। পূর্বের বেবিবাঁধ নেই। এখানে সারে আটশ মিটার রিং বেড়িবাঁধ। তাও আবার আম্ফানে ক্ষত বিক্ষত করে ফেলছে। এর আগে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দ্বারে দ্বারে গিয়ে আমি অনেক বার ঘুরেছি। অবহেলিত এ জনপদের নিজামপুর গ্রামের তিন কিলোমিটার বেরিবাঁধ নতুন ভাবে করার জন্য তিনি প্রধান মন্ত্রীর কাছে দাবি জানান।

কলাপাড়া পানি উন্নয়ন বোর্ড নির্বাহী প্রকৌশলী মো.ওয়ালিউজ্জামান খান বলেন, ঘূর্নিঝড় আম্ফানে রিং বেরিবাঁধটি ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে। সরজমিনে পরিদর্শন করেছি। যে বরাদ্ধ দেয়া হয় তাদিয়ে কোন রকমের কাজ করা সম্ভব। এ সাগর মোহনায় ব্লকসহ পুনাঙ্গ বেরিবাঁধ করা দরকার। এর জন্য প্রকল্প তৈরি করে মন্ত্রনালয় পাঠানো হয়েছে বলে তিনি জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme