1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
তালতলীতে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলবাসির ভালোবাসায় পাখিদের একটি অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে - dipanchalnews
রবিবার, ০৩ জুলাই ২০২২, ০২:২৯ অপরাহ্ন

তালতলীতে সমুদ্র উপকূলীয় অঞ্চলবাসির ভালোবাসায় পাখিদের একটি অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে

  • আপলোডের সময় : সোমবার, ১৫ জুন, ২০২০
  • ২১২ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

জুলহাস(স্টাফ রিপোর্টার): গ্রামবাসীর অদৃশ্য ভালোবাসায় পাখিদের একটি অভয়ারণ্য সৃষ্টি হয়েছে বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার সমুদ্র উপকূলীয় সোনাকাটা ইউনিয়নের লাউপাড়া গ্রাম। প্রতি বছর এখানে ছুটে আসে হাজার হাজার সাদা বক ও কালো পারকৌড়ি। এখানে ছয় মাস অবস্থান করে চলে যায় অজানার উদ্দেশ্যে।

স্থাণীয় সূত্রে জানাগেছে, প্রতিবছর আষাঢ়ের প্রথম দিকে ধারাবাহিকভাবে গত ৪/৫ বছর ধরে ঝাঁকে ঝাঁকে সাদা বক উড়ে এসে উপজেলার লাউপাড়ার গ্রামের ফোরকান ও আলকাছ ফরাজীর বাড়ীর বাগানের বিভিন্ন গাছে বাসা বাঁধে।

এখানে পাখিগুলো ৬ মাস অবস্থান করে বাচ্চা ফোটায়। সার্বক্ষণিক পাখিগুলোর দিকে নজর রাখছেন গ্রামবাসী। বাড়ির মালিক ও প্রতিবেশীরা বক ও তাদের ছানাগুলোকে মাঝে মাঝে খেতে দেয়। ছোট্ট ছানাগুলো বাসা থেকে পড়ে গেলে সেগুলো বাড়ীর মালিক আবার বাসায় তুলে দেয়। পাখিগুলো মালিকের অদৃশ্য ভালোবাসায় মুগ্ধ হয়ে আষাঢ়ের প্রথম দিকে এখানে ছুটে আসে। ছানাগুলো বড় হয়ে উঠলে আবার অজানার উদ্দেশ্যে চলে যায়।

তবে এবার শুধু সাদা বক নয়, সাদা বকের সাথে দেখা যাচ্ছে কালো রংয়ের পানকৌড়ি। শুরুতে পাশাপাশি দুই তিন বাড়ীর গাছপালায় এগুলো বাসা বাঁধে। এরপর থেকে সংখ্যাটা শুধু বাড়তেই থাকে। সাদা আর কালো রঙের পাখিতে ঢেকে থাকে গাছের ডালপালা।

পাখির বিষ্ঠায় সাদা হয়ে থাকে বাগান, বসত বাড়ির চাল ও উঠান। সকাল হলে খাবারের সন্ধানে ছুটে যায় পাখিগুলো। খাবার সংগ্রহ করে আবার সন্ধ্যার পূর্বেই ঝাঁকে ঝাঁকে ফিরে আসে।

পাখিগুলোর কলকাকলী ও কিচিনমিচিন শব্দে এখানে অন্য রকম একটি পরিবেশের সৃষ্টি হয়। এসব পাখির ঝাঁক দেখতে দ‚র-দ‚রান্ত থেকে আসছেন বহু পাখিপ্রেমী মানুষ।

স্থাণীয় ফোরকান ফরাজী জানান, তাঁদের বাড়ীর বাগানের গাছেই প্রথম বাসা বাধে হাজার হাজার সাদা বক। গত ৪/৫ বছর ধরে ধারাবাহিকভাবে সাদা বক ও কালো পানকৌড়ি আমাদের বাড়ীর বিভিন্ন গাছে বাসা বেঁধে থাকতে শুরু করে। আমাদের বাড়ী থেকেই প্রথম শুরু হয়েছিল পাখিগুলোর আতিথেয়তা।

তিনি আরো বলেন, আমাদের গ্রামের আশপাশে ছোট ছোট বেশ কয়েকটি বদ্ধ ছোট খাল ও বিল রয়েছে। আষাঢ় মাসের শুরুতেই এসব খাল ও বিলে বর্ষার পানি জমতে শুরু করলেই এই বক আর পানকৌড়িগুলো আসতে শুরু করে। নদী ও বিল থেকে খাবার সংগ্রহ করে। এরপর বাচ্চাগুলো বড় হয়ে উঠলে অন্যত্র চলে যায়।

আলকাছ ফরাজী জানান, পাখিগুলো ভালোবাসা বোঝে তাই বারবার এখানে ফিরে আসে। আমরাও পাখিদের ভালোবাসায় মুগ্ধ। গাছে গাছে বাসা বেঁধে ছয় মাসের মতো পাখিগুলো এখানে থেকে ডিম দেয়, বাচ্চা ফোঁটায়। পাখির বিষ্ঠা/ মল ও উচ্ছিষ্ট খাবারে বাড়িঘর নষ্ট হয়ে যায়। দুর্গন্ধে মাঝে মাঝে অতিষ্ঠ হয়ে উঠি তবুও পাখিগুলোর জন্য মায়া লাগে। তাই তাদের তাড়াই না বরং শিকারিদের হাত থেকে রক্ষা করতে দিন- রাত পাহারা দিয়ে রাখি।

লাউপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জালাল উদ্দিন মুঠোফোনে বলেন, পাখি ও প্রকৃতি আমাদের জীবনেরই একটি অংশ। আমি যতটুকু জানি প্রতি বছরের ন্যায় লাউপাড়াতে বিভিন্ন পাখি আশ্রয় নিয়ে থাকে। নানাবিধ সমস্যা থাকা সত্তে¡ও

পাখিগুলোকে আশ্রয় দেওয়ার জন্য তিনি গ্রামবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

জীববৈচিত্র রক্ষায় এ গ্রামের মানুষের মতো সবাইকে পাখির প্রতি ভালোবাসা বাড়ানোর আহ্বান জানান।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme