1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
করোনা মহামারী, মৃত্যুর রাজনীতি আর লাল-সবুজের লকডাউন - dipanchalnews
শুক্রবার, ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ০৮:০৮ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ :
বরগুনা পৌর পান-সুপারী ব্যবসায় সমবায় সমিতি লিঃ এর কার্যনির্বাহী কমিটির নির্বাচন অনুষ্ঠিত বরগুনায় মহিলা পরিষদের উদ্যোগে নারী নির্যাতন প্রতিরোধপক্ষ ২০২২ অনুষ্ঠিত মানবতার আরেক নাম নব-গঠিত বরগুনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ মানবতার আরেক নাম নব-গঠিত বরগুনা পৌর স্বেচ্ছাসেবক লীগ “ধ্রুবতারা” বরগুনা জেলা কমিটির সভাপতি সুমন সিকদার, সম্পাদক অর্পিতা বরগুনায় শ্রমিকলীগের উদ্যোগে বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুল হক মন্টু এর ২য় মৃত্যু বার্ষিকী পালিত জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সাধারণ সম্পাদককে শ্রমিক লীগের শুভেচ্ছা জেলা আওয়ামী লীগের নবনির্বাচিত সভাপতিকে শ্রমিক লীগের শুভেচ্ছা প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ শ্রমিক লীগের উদ্যোগে বরগুনায় জেল হত্যা দিবস পালিত

করোনা মহামারী, মৃত্যুর রাজনীতি আর লাল-সবুজের লকডাউন

  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১১ জুন, ২০২০
  • ৬৮১ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

জিন্নাতুন নেছা : প্রায় ৪ মাস হতে চললো করোনার সাথে আমাদের সংসার। একটা নিউজে দেখছিলাম কম করে হলে ও ৪-৫ বছর আমাদের এই করোনার সাথেই জীবন-যাপন করতে হবে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার এক বার্তায় এমনই খবর পাওয়া গেছে। তাই হয়তো বাংলাদেশের মত তৃতীয় বিশ্বের দেশ ও এই করোনাকে নিয়েই বাচার চেষ্টা করছে। অনেকটা প্রাত্যহিক জীবনের চলাফেরায় করোনাকে স্থান দেয়ার মত ব্যাপার। আর আপনি কিভাবে স্থান দেবেন তা কেবল আপনিই ঠিক করবেন। বোধকরি এই অভ্যাসগত পরিবর্তন আনার জন্য সকল পর্যায় থেকেই কাজ করা হচ্ছে। কিন্তু বাস্তবচিত্র বলে অন্য কথা। গত ৪ মাসে পরিবর্তন তো হয়নি বরং সকাল কিংবা বিকেল চায়ের দোকানে আড্ডা কিংবা রাস্তায় লোকাল বাসের ভিড় ঠেলে পথিকের পথ চলায় প্রমান করে আমরা কতটা সতেচন হতে পেরেছি। তবে হ্যা যদি আপনি কৌশলী হোন, সচেতন হোন,সতর্ক হোন তাহলে আপনি বেচে থাকবেন। আর যদি তার ব্যতয় ঘটে তাহলে বেচে থাকবেন না,মৃত্যুর রাজনীতির বলিদান আপনি!কারন রাষ্ট্রের নিকট আপনি একজন প্রানী মাত্র। কিন্তু পরিবারের কাছে আপনি বাবা,ভাই,মা,বোন,সন্তান কিংবা আরো কত কি??

কোভিড-১৯ প্যানডেমিক এ বাংলাদেশ সরকারের একের পর এক কৌশলী পথা চলা কিংবা ধরি মাছ না ছুই পানির মত সিদ্ধান্তই আমি মনে করি আমাদের আজ এই অত্যন্ত ভয়াবহ অবস্থার জন্য দায়ী। ফেইসবুকের সুবাদে এক নিউজেই জানলাম এক ঢাকায় প্রায় ৪-৫ লক্ষ্য লোকজন করোনা আক্রান্ত। সারাদেশে হিসেব করলে তা কত লক্ষ্য হবে তার কোন ইয়ত্তা নাই।
সরকারি হিসেব অনুযায়ী, আজ পর্যন্ত বাংলাদেশে কোভিড-১৯ আক্রান্ত ৭৪ হাজার ৮৬৫ জন। মৃত্য আজ হাজার(১০১২) ছাড়িয়ে গেছে। কিন্তু ঘরে ঘরে মৃত্যুর মিছিল বয়ে চলেছে। চারিদিকে পরিচিতজন,আপনজনদের আক্রান্ত আর মৃত্যুর খবর অনেক বেশি ভারাক্রান্ত করে তুলছে মনটাকে। দিন দিন নিজেকে বিকারগ্রস্ত মনে হচ্ছে।
ভাবতে পারছিনা কোনদিকে যেতে চলেছি আমরা?

কিছুটা পিছন ফিরে তাকালে বুঝতে পারা যায়, বিদেশ থেকে ভাইরাস এদেশে প্রবেশেরই আগে রোধ করতে পারতো সরকার তা করেনি!মেনে নিলাম। এরপর কঠোর লকডাউন না দিয়ে দিলো সাধারণ ছুটি। মেনে নিলাম। ঈদের ছুটিতে বাড়ি যাওয়া যাবেনা কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়িতে যাওয়া যাবে। শুরু হলো টাকাওয়ালাদের প্রাইভেট কার,নোহা ওয়ালাদের রমরমা ব্যবসা, মেনে নিলাম।লকডাউন তুলে নেয়া হলো কিন্তু আবার সেটা দেয়া হলো লাল,হলুদ সবুজের আলোকে। সত্যিই আমার ক্ষুদ্র ব্রেনে কাজ করছেনা এর কার্যকারিতা কি??জোন ভিত্তিক লকডাউন দিয়ে কি করে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন কমানো যায়,ভাইরাস সংক্রমণ এড়ানো যায় আমি অন্তত বুঝতে পারছিনা!এক জোনে আজ লকডাউন চলছে ধরলাম ৫ দিন চলবে, ৫ দিন পর কি তারা অন্য এলাকায় যাবেনা! এর মধ্যে কি তাদের মধ্যে যদি ভাইরাস থেকে থাকে তাহলে ভালো হয়ে যাবে।
সরকার তার কৌশল একের পর এক এভাবে পাল্টিয়েই চলছে। ঘোড়াবুঝ দিয়েই চলেছে বাংগালী জাতিকে।

দীর্ঘ প্রায় ৪ মাস নানান নাটকীয়তা করতে করতে আজ আমরা করোনাকে প্রায় নিজের ঘরেই জায়গা করে দিয়েছি। কিন্তু এসব না করে যদি ৩০ দিন কঠোর লকডাউন পালন করা হতো কিংবা ১৪৪ ধারা জারি হতো। সবকিছু বন্ধ থাকতো তাহলে কি আজ বাংলাদেশ যে জায়গায় পৌছেছে সেই জায়গায় যেতো??? আমি বোধকরি যেতোনা। আবার এতে করে আজ বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ভাবে যে অবস্থানে আছে আমার মনে হয় তার চাইতে তফাৎ খুব বেশি হতো না। আরে ভাই জীবন বেচে থাকলে টাকা আসবে,আপনার অর্থনীতি বাচবে কিন্তু জীবন যদি না বাচে তাহলে টাকা দিয়ে কি করবেন?বোধকরি ভুলে গেছেন অর্থনীতিবীদরা জনশক্তিই অর্থনীতির মূল নিয়ামক। যদি জনশক্তিই না থাকে তাহলে অর্থনীতি দিয়ে কি হবে!!

কিন্তু মাঝ থেকে আমাদের করোনা নিয়ে বসবাস করতে হতোনা। এতো মানসিক চাপ আমাদের নিতে হতোনা।প্রতিনিয়ত মারা যাবার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে অফিস করতে হতোনা!বাহিরে বের হতে হতোনা! প্রতিদিন সকালে মাকে,বাবাকে,ছেলেকে বলতে হতো না দোয়া করিও যেনো সন্ধ্যায় ঘরে ফিরতে পারি ঠিকমত।এই মানসিক যন্ত্রনা যে কতটা বিশাল তা কি করে বুঝবেন মাননীয় রাষ্ট্র!!

ফরাসি দার্শনিক মিশেল ফুকোর একটি টার্ম খুব মনে পড়ছে।তা হলো জৈব রাজনীতি। অর্থাৎ নাগরিকের দেহের উপর,জীবন-মৃত্যুর উপর রাষ্ট্রের সার্বোভৌম ক্ষমতা বিদ্যমান। জৈব রাজনীতি হলো, মানুষের শরীরের উপর নানা প্রক্রিয়ায় রাষ্ট্র ক্ষমতা বিস্তার করে।যেমন আমরা দেখে এসেছি নারী শরীরের উপর বিভিন্ন ধরনের জন্মনিরোধক ব্যবহারের মাধ্যমে এক ধরনের নিয়ন্ত্রণ করেছে রাষ্ট্র। তেমনি বর্তমানে কোভিড-১৯ অবস্থানে ও নানান কৌশল অব্যাহত রেখেছে সরকার।যার পরিনতি হলো মৃত্যুর মিছিল।
সারাদেশে হাজার হাজার লোক মারা যাচ্ছে কিন্তু সরকার বলছে আমরা এতো জন টেস্ট করেছি তার মধ্যে এতো আক্রান্ত আর এতো মৃত। আর বোকাসোকা নেট বন্ধ করে ঘুমাইছে তা মেনে নিয়ে ভাবছে আহা! ইতালী,আমেরিকার চাইতে আমরা ভালোই আছি।আমাদের দেশে তো আর একদিনে ৭০০ জন মারা যাচ্ছেনা!হ্যাঁ, আমাদের দেশেও একদিনে ৭০০ জন মারা যাচ্ছে বোধকরি তার চাইতে বেশি মারা যাচ্ছে।তার চাইতে বেশি আক্রান্ত হচ্ছে।কিন্তু ঐ যে প্রতিদিন প্রেস ব্রিফিং হয় যেখানে সাজানো কিছু বক্তব্য থাকে।এত টেস্ট,এতো আক্রান্ত,এতো মৃত। কিন্তু যাদের টেস্ট হয়না কিন্তু করোনা সাস্পেক্টেড উপসর্গ নিয়ে মারা যায় তাদের কি হবে?? তারা এই দেশের নাগরিক নয়? তাদের সেবা পাবার অধিকার নাই!

একটা পরিসংখ্যান বলিঃ গত ৪জুন সারাদেশে মোট টেস্ট হয়েছে ১২৬৯৪, ৫জুন হয়েছে ১৪০৮৮, ৬জুন হয়েছে ১২৪৮৬, ৭জুন হয়েছে ১৩১৩৬, ৮জুন ১২৯৪৪, ৯জুন হয়েছে ১৪৬৬৪,১০ জুন টেস্ট হয়েছে ১৫৭৩৩. (তথ্যসূত্র ঃ DGHS website)সারাদেশে টেস্টের সংখ্যার এই ওঠানামা আসলে কি বুঝায়? এমনকি প্রতি জেলা থেকে বর্তমানে টেস্ট করানোর সংখ্যা ও কমিয়ে আনা হচ্ছে পর্যায়ক্রমে। তাহলে কি আবারো নো টেস্ট নো করোনা নীতির আলোকেই করোনাকে বিদায় জানানোর কৌশল শুরু হতে চলেছে!!

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme