1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
করোনা এবং আমাদের ভ্যাকসিন - dipanchalnews
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:১৯ অপরাহ্ন

করোনা এবং আমাদের ভ্যাকসিন

  • আপলোডের সময় : শনিবার, ২৩ মে, ২০২০
  • ৫৭৫ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২০

দু:খজনক হলেও সত্য আমি যখন আজ এই কথাগুলো বলছি তখন করোনায় আক্রান্ত হয়ে পৃথিবীতে প্রায় ২ লাখ মানুষ ইতিমধ্যে মৃত্যুমুখে পতিত হয়েছে। এবং বাংলাদেশেও যার বিষাক্ত ছোঁবল ক্রমশই বাড়ছে। করোনা প্যান্ডেমিক বা যেকোন প্যান্ডেমিকেই লাখো লাখো মানুষ আক্রান্ত হবে এবং তার বড় একটা অংশ মৃত্যু এড়াতে পারবে না এটাই হয়তো স্বাভাবিক। কিন্তু ১৯২০ সালের ২ লাখ আর ২০২০ সালের দুই লাখ হতাহতের সংখ্যা, সংখ্যার বিচারে একই অর্থবহন করলেও অন্য একটা দন্ডে এই দুয়ের মাঝে অনেক বড় একটা মেসেজ থেকে যায়। আমরা যতই উন্নত হই না কেন প্রকৃতির কাছে নস্যি এটাই মনে করিয়ে দেয় এই করোনা এবং কোভিড -১৯।

৮ মার্চ বাংলাদেশে প্রথম কেস শনাক্ত হওয়ার পরে অনেক বড় একটা সময় করোনা পরিস্থিতি তথ্য উপাত্তের ভিত্তিতে নিয়ন্ত্রনে ছিল বলে ধরে নেয়া যায়। সেক্ষেত্রে লজিস্টিকাল সীমাবদ্ধতা বা আরো অন্যান্য ইস্যু আসতে পারে কিন্তু সংক্রমনের হার মোটামুটি কিছু এস্পেসিফিক এলাকায় ক্লাস্টার ট্রান্সমিশন হিসেবেই পরিলক্ষিত হয়। কিন্তু এখন এই মুহূর্তে কম বেশি দেশের ৬১ জেলায় এটি ছড়িয়েছে এবং দু:খজনকভাবে আমাদের বরগুনার ৫টি উপজেলাতেই করোনা সংক্রমনের উপস্থিতি প্রমাণিত। আরো দু:খজনক সত্য হলো এদের অনেকেরই কোন বিদেশ, ঢাকা কিংবা অন্যান্য সম্ভাব্য ঝুঁকিপূর্ণ কোন এলাকা গমনের ইতিহাস নেই। পারিবারিক ভাবে সংক্রমনের কিছু ইতিহাস কারো ক্ষেত্রে থাকলেও একেবারে কমিউনিটি ট্রান্সমিশনের ইংগিত ও মিলছে কিছু কিছু রোগীর ক্ষেত্রে। যাদের একটা বড় অংশ বরগুনা জেলা হাসপাতালের সম্প্রসারিত অংশে করোনা আইসোলেশন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

সহজাত প্রবৃত্তির দ্বরুন উহানে যখন প্রথম করোনা শনাক্ত হয়, তখন একজন বরগুনা বাসী হিসেবে আমি ঠিক যতটা করোনা আক্রান্তের ভয়ে আতংকিত ছিলাম আজ তার চেয়ে অবশ্যই অনেক বেশি আতংকিত ও শংকিত। কারন আজ আমার বরগুনায় ২০ জনের বেশি আক্রান্ত এবং দুজন মৃত! আর এই প্যান্ডেমিক বা মহামারী প্রতিরোধের আসল ঔষধ, অস্ত্র এবং ভ্যাকসিন মূলত এই সহজাত প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে এই এস্পেসেফিক পয়েন্টেই! একটা আসন্ন দুর্যোগের পূর্বাভাষকে যথাযথ ভাবে রেস্পন্স করে সম্ভাব্য সকল বিজ্ঞানসম্মত প্রতিরোধের উপায়ে জনগনের শতভাগ অংশগ্রহনের কমিটমেন্টই আমার কাছে করোনা কিংবা যেকোন মহামারীর প্রধান ভ্যাকসিন মনে হয়।

যেখানে আমেরিকার মত উন্নত স্বাস্থ্য ব্যবস্থার দেশ আজ ভুগছে শুধু মাত্র এই একমাত্র ন্যাচারাল ভ্যাকসিনের ব্যাপারে যথাযথভাবে সাড়া না দিয়ে। তাই সহজাত প্রবৃত্তির বিরুদ্ধে যেয়ে আমাকে ঠিক ততটাই আতংকিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল উহানের ঘটনার দিন থেকে, যতটা আতংক আজ আমার মাঝে ঘুরপাক খাচ্ছে বরগুনা হাসপাতালের ১২ জন ভর্তি রোগী দেখে বা জেলার মোট ২২ জন আক্রান্তের দু:সংবাদ শুনে। কারন আমাদের দেশের আর্থ সামাজিক অবস্থা বা উন্নত বিশ্বের সাথে স্বাস্থ্য ব্যবস্থার পার্থক্যের ব্যাপারটা ও তো আমাদের কারো অজানা বা অননুমেয় ছিল না!

আজ বরগুনা হাসপাতালে ১২ জন ভর্তি রোগীর হয়তো শতভাগই পরিপূর্ণ ভাবে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফেরার একটা সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ হতে পারে কিন্তু সেই বাস্তবতা দেখে যদি আমরা আবার উহানের ঘটনায় ফিরে যাই তবে তার ভবিষ্যৎ হবে খুবই বিভতস! সেক্ষেত্রে যথেষ্ট মাত্রায় আতংকিত হওয়ার জন্য ২ জন মৃত্যুর বিপরীতে ২০ টা লাশের জন্য অপেক্ষা করতে গেলে পুরো বরগুনাই হতে পারে মৃত্যুপুরীর এক নাম! তাই আমরা কেবলমাত্র খালি চোখে বিপদ দেখেই সচেতন হওয়ার পাশাপাশি অদৃশ্য ভাইরাস শত্রুর অদেখা কিন্তু সুনিশ্চিত ভাবে অবধারিত বিপদের জন্য এখনই প্রস্তুত হওয়ার সর্বোচ্চ সময়।

আজ আমরা আসলেই জানি না যে পরবর্তী ২১ জন রোগীর সবাই করোনা আক্রান্ত হওয়ার পাশাপাশি অন্য কোন রোগে আক্রান্ত থাকবে কি না। কিংবা সেই ২১ জন পুরো একটা এলাকাকে আক্রান্ত করবে কিনা! এমনো হতে পারে আদর্শ উপসর্গ ছাড়াই পরবর্তী ২১ জন করোনা পজিটিভ রোগী তার পরিবার কিংবা সমাজের আরো ১০০ জনকে আক্রান্ত করলো যাদের ৫০% কোন ব্যাধিতে ভুগছিলেন। সেক্ষেত্রে প্রথম ২১ জন রোগীর মত ১০০% সুস্থের ন্যায় ১০০% মৃত্যু হার ও সম্ভব! তাই আমরা সচেতন হতে সেই দুর্বিষহ দিনের জন্য অপেক্ষা না করি।

আবার বিভিন্ন তথ্য উপাত্ত ঘাটলে দেখা যায় অন্য রোগে আক্রান্ত হওয়া কিংবা বেশি বয়স্ক মানুষ ছাড়া সাধারণ কম বয়সী মানুষরাও মৃত্যুকে উপেক্ষা করতে পারছে না। তার জ্বলজন্ত প্রমান আমাদের সিলেট মেডিকেল কলেজের সহকারী অধ্যাপক ডা: মাইনুদ্দিন স্যার! তাছাড়া বিভিন্ন দেশে অনেক বয়সী মানুষের হতাহতের খবর আসছে। যার পরিমান মোট আক্রান্তের ১% হলেও সংখ্যার হিসেবে কপালে ভাজ হওয়ার জন্য সেটা যথেষ্ট!

বরগুনা জেলাতে আক্রান্তের হারের একটা বড় অংশ যুবক এবং অপেক্ষাকৃত কম বয়সী মানুষরা। আর যুবকদের আক্রান্তের উচ্চ হারে সামাজিক গন সংক্রমণের (ম্যাস ট্রান্সমিশন) একটা পটেনশিয়াল রিস্ক থেকেই যায়, যদি এই যুবকরা ভাইরাসে কাবু না হওয়ার স্টাটিক্যাল ডাটা দেখে অবাধ চলাচলে ব্যতিব্যস্ত থাকে। তাই যুবকদের জানতে হবে যে তাদের অবহেলা আর অসচেনতাই তার একান্ত প্রিয় মা বাবা,পরিবারের বৃদ্ধি আত্মীয়স্বজন কিংবা প্রসূতি স্ত্রীর জীবনহানির জন্য একমাত্র কারন হতে পারে।

প্রসংগতই শেখ মুজিবের ৭ মার্চের ভাষনের কিছু অংশ টেনে আনবো শেষ কথায়। “ভাইয়েরা আমার তোমরা সবই জানো এবং বুঝো ”

হ্যা সত্যই আমরা সবাই কমবেশি ভালই জ্ঞান রাখি করোনা সম্পর্কে এবং এর প্রতিকারের ব্যাপারে। এখন নতুন কিছু জানানোর নেই। এখন শুধু উপলব্ধি এবং করনীয় বিষয়াদি বিশদভাবে মেনে চলার সময়। তাই আসুন সবাই বরগুনাকে ভালবাসি, বাংলাদেশকে ভালবাসি। দেশকে ভাল রাখার জন্য একটু কষ্ট করে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিত করার পাশাপাশি কফ হাইজিনসহ সাধারণ কিছু নিয়মাবলী মেনে চলি যেটা বিভিন্ন মাধ্যমে নানা উপায়ে সরকার ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা আমাদের নির্দেশনা দিয়ে যাচ্ছে । এবং করোনার বিপক্ষে এই মুহূর্তে এটাই আমাদের সর্বোত্তম এবং একমাত্র “ভ্যাকসিন “!

কেননা সারা ক্যাথেরিন গিলবার্টদের ভ্যাকসিন বিজ্ঞানসম্মত প্রমানের মাধ্যমে তৈরি হয়ে বাণিজ্যিক ভাবে আমাদের মত দেশের সব মানুষের হাতের নাগালে আসতে যে পাড়ি দিতে হবে অনেক বড় পথ! অনেক দুর্বিষহ ভবিষ্যৎ!!

ডা: মেহেদী হাসান
মেডিকেল অফিসার
বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল

 

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme