1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
বরগুনায় করোনায় কারাবন্দীদের কেমন কাটছে দিন - dipanchalnews
রবিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১১:২৩ অপরাহ্ন

বরগুনায় করোনায় কারাবন্দীদের কেমন কাটছে দিন

  • আপলোডের সময় : শনিবার, ১৮ এপ্রিল, ২০২০
  • ৫১৯ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

এম.এস রিয়াদঃ বিশ্ব যেখানে আজ করোনার কড়াল গ্রাসে থমকে দাঁড়িয়েছে। থর থর করে কাঁপছে প্রতিটি ঘর। দৈনিক হাজার হাজার মানুষের মৃত্যুর মানববন্ধন চলছে করোনার বিরুদ্ধে। তাই মানুষের স্বাস্থ সুরক্ষায় প্রতিটি রাষ্ট্রের রাষ্ট্র প্রধানগণ হাতে নিয়েছেন বিভিন্ন উদ্যোগ। বারবার হাত ধোয়ার পাশাপাশি মাস্ক ও হ্যান্ড গ্লোবস্ ব্যবহার করতে, সামাজিক ও শারিরিক দুরত্ব বজায় রাখতে প্রতিটি মানুষকে উদ্বুদ্ধ ও সচেতন করার জন্য নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন দেশের জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব, নৌবাহীনি, সেনাবাহিনীসহ রেডক্রিসেন্ট ও সামাজিক সংগঠন’র সদস্যরা। তবে করোনা নামক ভাইরাসে এমন এক মহামারি দুর্যোগ পরিস্থিতিতে দেশের কারাগারে কারাবন্দীদের কেমন কাটছে দিন! করোনা থেকে সুরক্ষায় বন্দীদের জন্য কতটা নিরাপদ ব্যবস্থা গ্রহন করেছন কারা কর্তৃপক্ষ? এই সময় খাবার ও পানি কতটা নিরাপদ দিতে সক্ষম হচ্ছে? কারাবন্দীদের স্বাস্থ সুরক্ষায় চিকিৎসার জন্য কি ধরণের প্রস্তুতি রয়েছে? দেশের বাহিরে প্রায় উন্নত দেশগুলোতেই বিভিন্ন জেল হাজতে সুচিকিৎসার জন্য বিক্ষোভ করতে ইলেকট্রনিক ও প্রিন্ট মিডিয়াগুলোতে দেখা গেছে। সেখানে বাংলাদেশ হিমসিম অবস্থায় পড়াটা অস্বাভাবিক কিছুই নয়। অপরদিকে আবার করোনার কারণে চলতি বছরের শুরুতেই মিয়ানমারে পঁচিশ হাজার কারাবন্দীকে ছেড়ে দিবে বলে ঘোষণা দিয়েছে দেশটি। বাংলাদেশ সরকারের নির্দেশে প্রতিটি জেল হাজত থেকে ছেড়ে দেয়ার মতো উপযুক্ত বন্দীদের সুপারিশ পাঠিয়েছেন কারা কর্তৃপক্ষ। কারা সূত্রে জানাগেছে বরগুনা জেলা কারাগার থেকেও ২২ জনের তালিকা করে সুপারিশ করেছেন জেল সুপার।

বরগুনা জেলা কারাগার এর জেল সুপার আনোয়ারুল ইসলাম মুঠোফোনে জানান, জাতির এ ক্রান্তিলগ্নে মহামারির প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটি’র সহযোগিতায় প্রতিদিন বন্দীদের সুরক্ষায় জীবানুনাশক স্প্রে করার পাশাপাশি এর লক্ষণ ও পরিত্রাণের উপায় সম্পর্কে ধারণা দিচ্ছি। সেই সাথে কারা বন্দীদের স্বাস্থ সুরক্ষায় সিভিল সার্জন কার্যালয় থেকে একজন চিকিৎসক (মেডিকেল অফিসার) ও ডিপ্লোমা নার্স তদারকি করছেন।
তবে আগের থেকে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনা করে বন্দীদের স্বাস্থ সুরক্ষায় মনিটরিং ব্যবস্থা জোড়দার রেখেছি।
বর্তমানে শিশুসহ চার শত তিন জন বন্দী রয়েছে। এরমধ্যে চার বছরের একটি শিশু সন্তান বন্দী মায়ের সাথে রয়েছে। শিশুদের আলাদা কক্ষে রাখা হয়েছে। তবে করোনার প্রাদুর্ভাব কমলেই যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে পাঠানো হবে। আদালতে স্বাক্ষী গ্রহন থাকায় রিফাত শরিফ হত্যা মামলার চৌদ্দ শিশু হাজতীকে বরগুনা কারাগারে আনা হয়েছিলো। এর মধ্যে সাতজন জামিনে মুক্তি পেয়েছে। বর্তমানে অন্য মামলাসহ মোট আটজন শিশু বন্দী অবস্থায় রয়েছে।
এই সময়ে কারাগারের খাদ্য ব্যবস্থার কথা জানতে চাইলে; তিনি বলেন এসকল বন্দীদের জন্য প্রতিদিনের ম্যানুয়াল অনুযায়ী খাদ্য দেয়া হচ্ছে। যা একজন বন্দীর জন্য যথেস্ট।

বরগুনা সমাজ সেবা অধিদপ্তরের প্রবেশন কর্মকর্তা লায়লা আঞ্জুমান তানিয়ার কাছে জেলা কারাগারে অবস্থানরত শিশুদের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, রিফাত শরিফ হত্যা মামলাটি বিচারাধীন থাকায় যশোর শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে না পাঠিয়ে বরগুনা জেলা কারাগারে রাখা হয়েছে সাত জন শিশুকে। সমাজ সেবা থেকে যে বাজেট রয়েছে, তা দিয়ে শিশুদের পুষ্টির চাহিদা পূরণ করা সম্ভব হবে। জাতিসংঘ ইউনিসেফ’র নির্বাহী পরিচালক হেনরিটা ফোর তার বিবৃতিতে বিশ্বের সকল শিশুদের মুক্তি দেয়ার বিষয়ে যে কথা বলেছেন। এ ব্যাপারে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষ চিঠি পেলে আমাকে যে ধরণের নির্দেশ দিবেন, সে অনুযায়ী কাজ করব। তবে বর্তমান প্রেক্ষাপট বিবেচনায় রেখে শিশুদের প্রতি আরও যত্নবান হওয়ার জন্য কারা কর্তৃপক্ষকে বলা হয়েছে।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme