1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
পরীক্ষা ভীতি নিয়ে কিছু সাইকোলজিকাল টিপস - dipanchalnews
শুক্রবার, ০১ জুলাই ২০২২, ০১:১৮ পূর্বাহ্ন
শীর্ষ সংবাদ :
দক্ষিণাঞ্চলের স্বপ্নের দুয়ার খুলছে আজ হাইকোর্টে দুই মামলায় খালেদা জিয়ার স্থায়ী জামিন টাঙ্গাইলে নানা কর্মসূচির মধ্যে দিয়ে বিশ্ব পরিবেশ দিবস উদযাপিত- বরগুনায় ইসলামিক ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে হজ্জ বিষয়ক প্রশিক্ষণ অনুষ্ঠিত মঠবাড়িয়ায় হাত-পা বেঁধে ৫ম শ্রেণির ছাত্রীকে ধর্ষণ চেষ্টা, বৃদ্ধ গ্রেপ্তার টাংগাইলে জাতীয় শিশু কিশোর ইসলামী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগীতা ও পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান- বরগুনায় ইসলামি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে দুঃস্থদের মাঝে সরকারি যাকাত ফান্ডের চেক বিতরণ জেলায় শ্রেষ্ঠ অধ্যক্ষ নির্বাচিত মাওঃ মুহাম্মদ ইউনুস আলী বরগুনায় কমিউনিটি পুলিশিং ফোরামের মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত “প্রত্যাবর্তনের চার দশক,শেখ হাসিনার বদলে দেওয়া বাংলাদেশের,অপ্রতিরোধ্য অগ্রযাত্রা”

পরীক্ষা ভীতি নিয়ে কিছু সাইকোলজিকাল টিপস

  • আপলোডের সময় : বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২০
  • ৬৬০ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

পরীক্ষার আগে অনেক শিক্ষার্থীদেরকে দেখা যায় তীব্র মাত্রায় পরীক্ষা ভীতিতে ভুগে থাকেন তাদের উদ্বিগ্নতার মাত্রা এতটাই বেশি থাকে যে অনেক পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করতে পর্যন্ত ভয় পায়, অনেকে পরীক্ষাই দিতে পারে না। বিশেষ করে বোর্ড পরীক্ষাগুলোর আগে এই ভীতি এর মাত্রা অনেক বেশি থাকে। এটি সাধারনত ছোটদের ক্ষেত্রে বেশি হয়ে থাকে, তবে কিছু কিছু ক্ষেত্রে বড়দের মধ্যেও এর প্রবনতা দেখা যায়।

এখন প্রশ্ন হচ্ছে এই পরীক্ষা ভীতি কেন হয়?

পরীক্ষা ভীতি হওয়ার পেছনের অনেকগুলো কারন রয়েছে যেমন:
১। পরীক্ষা ভীতির অন্যতম একটা কারন হচ্ছে, একজন পরীক্ষার্থী যখন পরীক্ষা দিতে যায় তখন কিন্তু সে শুধু মাত্র তার একার পরীক্ষা দিতে যায় না, সে তার মাথায় অনেক গুলো বোঝা নিয়ে পরীক্ষা দিতে যায় এর মধ্যে রয়েছে, তার পরীক্ষায় ভালো রেজাল্ট করার মানসিক চাপ, পরিবারের সকলের তার প্রতি প্রত্যাশার চাপ, আত্মীয় স্বজনদের প্রত্যাশা, প্রতিবেশীদের প্রত্যাশা, বাবা মায়ের সম্মান, সামাজিক মর্যাদা, ভবিষ্যতের চিন্তা।
এবার একটু চিন্তা করে দেখুনতো একজন পরীক্ষার্থী সে যদি এত গুলো চিন্তা মাথায় রাখে তাহলে তার মধ্যে পরীক্ষা ভীতি আসবে না?
২। পরীক্ষা ভীতির আরেকটা কারন হচ্ছে, নিজের প্রতি নিজের প্রত্যাশা, আমি আগে বেশ ভালো করে এসেছি, আমাকে এটাতে অবশ্যই ভালো করতেই হবে।
৩। পরীক্ষা নিয়ে প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব, আমাদের সমাজে পরীক্ষাটা একটা প্রতিযোগীতার মঞ্চ হয়ে গেছে, সবার মধ্যে একটা প্রতিযোগিতামূলক মনোভাব রয়েছে, আমাকে ওমুকের চেয়ে ভালো করতেই হবে, ওমুকে পেলে আমি কেন পারবো না।
৪। জিপিয়ে ৫ এর প্রতি আসক্তি। আমাদের সমাজের সকলের একটা আসক্তি রয়েছে আর তা হলে জিপিয়ে ৫ পাওয়ার প্রতি আশক্তি। সবাইকে অবশ্যই জিপিয়ে ৫ পেতেই হবে, জিপিয়ে ৫ পেলে আবার গোল্ডেন কেন পেলো না। ওমুকে গোল্ডেন পেয়েছে তুমি কেন সামান্য জিপিএ ৫।
৫। পরীক্ষা ভীতির পেছনে অন্যতন একটা ভুমিকা পালন করে থাকেন বাবা মা। বাবা মায়ের দেওয়া মানসিক চাপ থেকে অনেক সময় শিশুদের মধ্যে পরীক্ষা ভীতি তৈরি হতে পারে।
৬। অনেক সমস্য দেখা যায়, কোন একটা পরীক্ষায় সামান্য ভুল করে আসলে, সেটা নিয়ে অনেকে অনেক বেশি দুশ্চিন্তায় পরে যায়, এর ফলে নিজের প্রতি ধীরে ধীরে কনফিডেন্স কমে যেতে থাকে, হাজারো নেগেটিভ চিন্তা তার মাথায় ঘুরতে থাকে, আমি আর পারবো না, আমি কিছুই পারি না, আমি ফেইলর, আমি ব্যার্থ ইত্যাদি ইত্যাদি। এই চিন্তাগুলো ধীরে ধীরে তাকে গ্রাস করা শুরু করে এবং তার মধ্যে পরীক্ষা ভীতির সৃষ্টি করে।
৭। পরীক্ষা নিয়ে অতিমাত্রায় উদ্বিগ্নতা, পরীক্ষায় পারফর্মেন্স খারাপ করে দেয়, যা পরবর্তী পরীক্ষায় প্রভাব ফেলতে থাকে ধীরে ধীরে ভীতির মাত্রা বাড়তে থাকে।

#পরীক্ষাভীতি_মোকাবিলায়_করনীয়।

১। শিশুর পরীক্ষাভিতি কমানোর জন্য প্রধান ভুমিকা পালন করতে হবে পিতা মাতাকে। বাবা মাকে সন্তানের প্রতি সাপোর্টিভ হতে হবে।
২। বাবা মায়ের সামাজিক মর্যাদা কখনোই শিশুর পরীক্ষার উপরে চাপিয়ে দিবেন না।
৩। সন্তানকে অন্যদের সাথে তুলনা করবেন না। মনে রাখবেন সে যেমন সে তেমন, তাকে অন্যদের সাথে তুলনা করা থেকে বিরত থাকুন।
৪। সন্তানকে পড়াশুনা এর বিষয়ে উৎসাহ প্রদান করুন, সে কোনটা ভুল করেছে, সেটাকে প্রাধান্য না দিয়ে, সে যতটুকু সঠিক করতে পেরেছে, তার জন্য তাকে উৎসাহ প্রদান করুন।
৫। পরীক্ষায় ভুল করে আসছে বলে তাকে কখনোই বকাঝকা করবেন না, বরং উৎসাহ দিন, একটাতে খারাপ হয়েছে তাতে কি হয়েছে, তার মধ্যে পর্যাপ্ত দক্ষতা রয়েছে, সে পরের গুলোতে অবশ্যই ভালো করবে।
৬। পরীক্ষাকে সন্তানের কাছে প্রতিযোগীতামুলক ভাবে উপস্থাপন করবেন না। তার চেয়ে ভালো করতেই হবে, এই মানসিকতা থেকে বের হয়ে আসার চেষ্টা করুন, বরং এই মানসিকতা প্রতি স্থাপন করুন, যেন সে তার অবস্থান এখন যেমন রয়েছে, তার তুলনায় সে আরকটু নিজেকে কিভাবে উন্নতি করতে পারে। অর্থাৎ প্রতিযোগিতা নিজের সাথে অন্যের সাথে নয়। সে সামান্য ভালো করলেও উৎসাহ প্রদান করুন।
৭। সন্তানের বুদ্ধিমত্তার লেভেল অনুযায়ী সন্তানের প্রতি প্রত্যাশা সেট করুন।
৮। ফেইলরটাকে ফোকাস না করে অর্জনটাকে ফোকাস করুন।
৯। পরীক্ষার ফলাফলের উপরের জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ভত করে না, বরং কর্মের উপরে জীবনের ভবিষ্যৎ নির্ভত করে এই মানসিকতা তৈরি করুন।
১০। মনে রাখবেন একবার ফেইলর মানে সারা লাইফে ফেইলর বা লুজার হয়ে যাওয়া নয় বরং আপনার জন্য অন্য হাজারটা সফলতার দরজা খোলা রয়েছে, হয়তো এটাতে হলো না, আপনার অন্য দিকে দক্ষতা রয়েছে রয়েছে, সেগুলোকে ফোকাস করুন। মনে রাখবেন একজন অন্ধ ব্যক্তির চোখ না থাকতে পারে কিন্তু তার অন্যান্য ইন্দ্রীয়গুলো কিন্তু অনেক বেশি সক্রিয় থাকে।
১১। সর্বোপরি নিজের প্রতি ইতিবাচক ধারনা নিয়ে আসুন। লক্ষ্য স্থির করুন এবং লক্ষ্যকে ছোট ছোট ভাগে ভাগ করে লক্ষ্য অর্যনের পথে অগ্রসর হোন। সফলতা আসবেই।
১২। প্রয়োজনে সাইকোলজিস্ট এর সরনাপন্ন হোন, নিয়মিত সাইকোথেরাপি নিলে পরীক্ষাভীতি থেকে মুক্ত হওয়া যায়।

দীপন চন্দ্র সরকার
এসিস্ট্যান্ট ক্লিনিক্যাল সাইকোলজিস্ট
ফোনঃ 01515201321.

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme