1. dipanchalbarguna@gmail.com : dipanchalAd :
মানুষের বিবেক এখন মগ ডালে পেটের দ্বায়ে মানছেন না নিষেধাজ্ঞা - dipanchalnews
সোমবার, ০৪ জুলাই ২০২২, ০৫:৪৮ অপরাহ্ন

মানুষের বিবেক এখন মগ ডালে পেটের দ্বায়ে মানছেন না নিষেধাজ্ঞা

  • আপলোডের সময় : বুধবার, ১৫ এপ্রিল, ২০২০
  • ২৭৮ বার নিউজটি দেখা হয়েছে

এম.এস রিয়াদঃ বিশ্ব জুড়ে এখন একটাই আতঙ্ক। যার নাম নোভেল করোনা ভাইরাস (কোভিড-১৯)। সংক্ষেপে করোনা মহামারী। চীন দেশের উহান প্রদেশ থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ভাইরাসটি আজ আড়াই শতাধিকেরও বেশি দেশে বিস্তার লাভ করেছে। ভাইরাসটি বাতাসের সাথে মানুষের শরীরের অন্ধরমহলে বিরাজ করছে। করোনা মানুষের শরীরে অবস্থান করলে এর পরিলক্ষণ শুরু হয় গলা ব্যাথা, সর্দি, শুকনো কাঁশি, জ্বর, আমাশার সাথে শ্বাসকষ্ট ও নিউমোনিয়া দিয়ে। করোনা ভাইরাস আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাঁশির মাধ্যমে, আক্রান্ত ব্যক্তিকে স্পর্শ করলে, পশু-পাখি বা গবাদি পশুর মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভালো ভাবে সাবান পানি দিয়ে অন্তত চল্লিশ-ষাট সেকেন্ড ধরে হাত ধুলে, অ্যালকোহলযুক্ত স্যানিটাইজার দিয়ে বিশ-ত্রিশ সেকেন্ড ধরে হাত পরিষ্কার করলে, হাত না ধুয়ে চোখ, মুখ ও নাক স্পর্শ না করলে, হাঁচি-কাঁশি দেওয়ার সময় বাহু/টিস্যু/কাপড় দিয়ে মুখ ঢেকে রাখলে, ব্যবহৃত টিস্যুটি দ্রুত বন্ধ বিনে ফেলে দিয়ে হাত পরিষ্কার করলে, অসুস্থ পশু বা পাখির সংস্পর্শে না আসলে, মাছ-মাংস ভালো ভাবে রান্না করে খেলে এবং হাঁচি-কাঁশি বা জ্বরে আক্রান্ত ব্যক্তি থেকে কমপক্ষে এক মিটার বা তিন ফুট দুরত্ব বজায় রেখে পরিচিত বা অপরিচিত ব্যক্তির সাথে হাত মেলানো বা আলিঙ্গন করা থেকে বিরত থাকলে, অপরিষ্কার হাত দিয়ে চোখ, নাক ও মুখ স্পর্শ করা থেকে বিরত থাকলে এবং অহেতুক বাড়ির বাহিরে না বের হলেই এর প্রকোপ থেকে রক্ষা পাওয়া সম্ভব হবে। এমন পরামর্শই দিচ্ছেন চিকিৎসকরা।

বিশ্ব জুড়ে যখন মানুষের মৃত্যুর মিছিল চলছে, ঠিক তখনই বাংলাদেশ সরকার দেশের মানুষের স্বাস্থ সুরক্ষায় বিভিন্ন উদ্যোগ ও পদক্ষেপ গ্রহন করেছেন। যেখানেই করোনার প্রকোপ অতিরিক্ত মাত্রায় পরিলক্ষিত হচ্ছে, সেখানেই জেলা প্রশাসনের মাধ্যমে লগ ডাউন ঘোষণা করছে। দেশের মানুষকে রক্ষা করতে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লোবস্ ব্যবহারের পাশাপাশি বেশি বেশি সাবান বা হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত কব্জি পর্যন্ত ধুতে বলা হচ্ছে। সেই সাথে সামাজিক দুরত্ব ও অহেতুক ঘর থেকে বের না হওয়ার নির্দেশনা দিচ্ছে জেলা প্রশাসন। সচেতন করার পাশাপাশি স্বাস্থ সুরক্ষার জন্য জেলা প্রশাসন, পুলিশ, র‍্যাব,নৌবাহীনি, সেনাবাহিনী, বাংলাদেশ রেডক্রিসেন্ট সোসাইটির ইউনিটসহ বিভিন্ন সামাজিক ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছেন। দেশের মানুষের স্বাস্থ সুরক্ষা ও করোনা থেকে মুক্তি পেতে সরকারের পক্ষ থেকে কর্মহীন মানুষের বাড়ি বাড়ি খাবার পৌঁছানোর ব্যবস্থা করছেন জেলা প্রশাসন। খাদ্য সামগ্রী দিয়ে সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন অনেক বৃত্তবানরাও। তবুও মানুষ যেনো নির্বোধ ও নির্বুদ্ধিতায় ভূগছে। সরকারের দেয়া নির্দেশণা মানছেন না অনেকেই। অহরহ ঘুরে বেড়ানোর পাশাপাশি সামাজিক দুরত্বতা বজায় না রেখেই করছে কেনা-বেঁচা। তাই জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে সংক্রামক রোগ (প্রতিরোধ,নির্মূল ও নিয়ন্ত্রণ) আইন ২০১৮ অনুযায়ী এসকল আইন অমান্যকারী ব্যক্তির বিরুদ্ধে প্রশাসনও নিচ্ছে কঠোর ব্যবস্থা। দৈনন্দিন খাবারের চাহিদা পূরণে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেঁধে দেয়া হয়েছে নির্ধারিত সময়। সরকারের নির্দেশে বন্ধ করা হয়েছে ছোট-ছোট সকল হাট-বাজার। সামাজিক দুরত্বতা নিশ্চিত করতে কাঁচা পণ্যের (মাছ,মাংস ও সবজি) বাজার স্থানান্তর করা হয়েছে বড় ও খোলা মাঠে। চিকিৎসালয় ও ফার্মেসী ব্যতিত নির্ধারিত সময়ের মধ্য কাঁচা পণ্যের পাশাপাশি বন্ধ করতে বলা হয়েছে মুদি দোকানগুলো। সরকার তথা প্রশাসনের লক্ষ একটাই। যাতে দেশের মানুষ ভালো থাকেন।

তবে দেশের এমন অকাল পরিস্থিতিতে মানুষের বিবেক যেনো মগ ডালে চড়ে বসেছে। একদিকে মৃত্যুর মিছিল, অন্যদিকে কোটি মানুষের কর্মবিরোতী। সরকারের তরফ থেকে প্রণোদনার বিন্দুমাত্র কমতি নেই। টনকে টন আর মনকে মন চাল সহ বিভিন্ন ধরণের খাদ্য সামগ্রী জেলা প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের জন্য বরাদ্দ দিয়েছেন। সাধারণ মানুষের কথা হল দিনের পর দিন কর্মহীন হয়ে ঘরে বসে থাকলে রাজার গোলাও খালি হয়। সাধারণ মানুষ খাদ্য সহায়তা প্রশাসনের তরফ থেকে শতভাগ পেলেও কেনো জনগণের প্রতিনিধি হয়ে জনগণকেই ঠকাচ্ছে জনপ্রতিনিধিরা? দেশের এমন মহামারি করোনার প্রাদুর্ভাবে সকল ধরণের কল-কারখানা, ছোট-বড় ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেছে। বন্ধ হয়েছে দেশের মূল চালিকা শক্তির প্রায় সবটুকুন। পিছিয়ে পড়েছে দেশের অপ্রতিরোধ্য উন্নয়নের অগ্রযাত্রা। তবুও যেনো এ মহামারি থেকে পৃথিবীর সকল মানুষকে আল্লাহ মুক্তি দেন। এমন প্রার্থনাই সকলের। সেই সাথে আপোদকালীন এই সময়টুকু যেনো ঘরের বাহিরে অহেতুক ঘোরাফেরা না করে নিজে এবং নিজের পরিবারকে সুরক্ষা রাখেন। প্রয়োজনে ঘরের বাহিরে বের হলে যেনো সামাজিক দুরত্বতা বজায় রেখে সরকারের দেয়া সকল নির্দেশনা মেনে চলেন সকলেই। এমন প্রত্যাশা প্রশাসনসহ সচেতন মহলের। তবেই এ মহামারি করোনা থেকে মুক্তি পেতে পারে দেশ ও দেশের মানুষ।

সোশ্যাল মিডিয়ায় শেয়ার করুণ :

Leave a Reply

Your email address will not be published.

এই বিভাগের আরও খবর :
© All rights reserved © 2020 The Daily Dipanchal
Customized By BlogTheme